বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে শোকের মাতম পদ্মার পানিতে ডুবেছে ঘর, পানিবন্দী মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার

রাজশাহীতে প্রাণের উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ বরণ

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৩৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ এই স্লোগানে রাজশাহীতে প্রাণের উচ্ছ্বাসে পালিত হয় বর্ষবরণ উৎসব। তীব্র রোদ আর গরম উপেক্ষা করে মানুষ উদযাপন করেন পহেলা বৈশাখের নানা আচার-অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে দেশ থেকে সব সাম্প্রদায়িক শক্তি রুখে দিয়ে সর্বত্র সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ডাক দেওয়া হয়। এক সুন্দর ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বর্ণিল আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রোববার রাজশাহীতে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন করা হয়। নবীন-প্রবীণ সবাই এ উৎসবে মেতেছিলো।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭টায় সিএন্ডবি মোড় হতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এই মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু করে রাজশাহী জেলা শিশু একাডেমি প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ও রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। শোভাযাত্রায় মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, সমাজসেবা কার্যালয়, লোক প্রশাসনসহ সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও শিশুরা অংশগ্রহন করে।

শোভাযাত্রা শেষে জেলা শিশু একাডেমি মঞ্চে শিশুদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, বৈশাখীর গান ও দেশাত্ববোধক গান পরিবেশিত হয়। সেইসাথে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলা নববর্ষ হচ্ছে সংস্কৃতির মানববন্ধন। শুধু তাইনয় সংস্কৃতি হচ্ছে অর্থনীতির অটুট বন্ধন। আর রাজশাহী হচ্ছে ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তিনি আরো বলেন, সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা নববর্ষের প্রচলন হয়। বৈশাখী উপলক্ষে এখন মেলা হচ্ছে। প্রানের এই উৎসব বাংলার জনগণ প্রাণভওে উপভোগ করছেন। করছেন আনন্দ।

তিনি আরো বলেন, পাক ভারত যুদ্ধের সময় রবীন্দ্র সংগীত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কারন তারা হচ্ছেন স্বৈরাচার। ১৯১৬ সালে পহেলা বৈশাখ মানে বাংলা নববর্ষ ইউনেসকোতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো দুইটি উল্লেখ করে সবকিছু গ্লানীমুছে বাংলাদেশ বিনির্মানে সকলেই একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজশাহী কলেজ থেকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর কলেজ চত্বরেই বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়া রাজশাহীতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বাঙালির প্রাণের এ উৎসব উদযাপনে রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহানগরীর আলুপট্টি পদ্মা নদীর পাড়ে নানান আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। এরপর সকাল ৯টায় বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রাটি মহানগরীর আলুপট্টি মোড় হয়ে বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বাদশাসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ে পান্তা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এরপর বিকেলে লালন মঞ্চে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু পরিবার, শিশু সদন (এতিমখানায়) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। এ ছাড়া রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্ব-স্ব ব্যবস্থাপনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।

বর্ষবরণ উপলক্ষে রাজশাহীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট বা একাডেমি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকাল থেকে তারা নানা ধরনের কর্মসূচী পালন করেন।

এ বছর বাঙালির এই বর্ণিল উৎসবে যুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতরের খুশিও। তাই ঈদ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। দুইটি সর্ববৃহৎ উৎসব ঘিরে এদিন সকাল থেকেই রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও জিয়া শিশু পার্কসহ প্রতিটি বিনোদন স্পটেই বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রাজশাহীর বিনোদনপ্রেমীদের এ ভিড় সকাল থেকে রাত অবধী গড়ায়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জামিরুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে, সেজন্য সতর্ক অবস্থানে ছিলো পুলিশ। যেসব স্থানে বৈশাখের অনুষ্ঠান চয়েছে, সেসব স্থানে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। এ ছাড়া পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সন্ধ্যার মধ্যেই সব অনুষ্ঠান শেষ করাসহ বেশকিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিলো আগেই। তবে শেষ পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin