নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের সার্ধশতবর্ষপূর্তি উৎসব উদযাপন করা হয়। বর্ষপূর্তি উদযাপনে দুই দিনব্যাপি বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করে সংগঠনটি। দ্বিতীয় দিনে ‘রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশন : ভবিষ্যত পরিকল্পনা, সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বিকেল ৪ টায় রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনার শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে অ্যাসোসিয়েশনের ভবিষ্যৎ করণীয় প্রস্তাবনা নিয়ে প্রবন্ধ উপ¯’াপন করেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সাবেক প্রধান আহমদ সফিউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তসিকুল ইসলাম রাজা। আলোচক ছিলেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রফেসর ড. সাজ্জাদ বকুল, রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শিখা সরকার, অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার।
প্রধান অতিথি ছিলেন, পাবনা ক্যাডেট কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন, অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কবি রুহুল আমিন প্রামাণিক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নাটক বাতিঘর উপস্থাপন করা হয়। রচনায় আনোয়ারুল ইসলাম, নির্দেশনায় ছিলেন মনোয়ার হোসেন মধু। সার্বিক তত্তবাবধানে ছিলেন, অ্যাসোসিয়েশনের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রশীদ।
সেমিনারে বক্তারা নিজেদের সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, অ্যাসোসিয়েশন এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতির উন্নয়নে অগ্রপ্রথিকের ন্যায় কাজ করে যাচ্ছে। যুগের চাহিদা পূরণে এই সংগঠনকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। আর সেখানে তরুণ সমাজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এই অঞ্চলের গুণিব্যক্তিদের বসতভিটাসহ অনেক কিছু বেদখল ও ধ্বংস প্রায়। এসব স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণে ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বশীল এই সংগঠনকে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজশাহীতে এমন একটি নাট্যমঞ্চ হোক। যেখানে নিয়মিত নাটক চর্চার সুযোগ তেরি হয়। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক চর্চার পথ মসৃণ করতে অভিভাবক সংগঠন হিসেবে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনকে কাজ করতে হবে। দেড়শো বছরের প্রাচীন এই সংগঠনকে জনসাধারণের মাঝে আরও প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন আছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি সমাজ ও বিশেষ করে সামাজিক সংগঠনগুলোতে ‘ঘরের খেয়ে বনের মেষ তাড়ানো’ মানুষের প্রয়োজন হয়। এই সংগঠনেও এমন কিছু নিবেদিত প্রাণ আছেন। তবে প্রচারণা বর্তমান সময়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এখনও এই সংগঠন গণমানুষের কাছে সেইভাবে পরিচিতি পায় নি। এ লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশনের সুউজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে প্রামাণ্য চলচিত্র নির্মাণ, সংগঠনের ইতিহাসগুলো সংরক্ষণ, এ অঞ্চলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নানা সুপারিশ উঠে আসে।