নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে রাজশাহীতে “আমানা গ্রুপ” নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধি বহির্ভূত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে তদন্ত পুর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এর নিকট রাজশাহী জেলা ক্যাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন, সহ-সভাপতি রাশেদা বেগম, প্রচার সম্পাদক সঞ্জু আহমেদ ও সহ-সাংগঠোনিক সম্পাদক জুলফিকার এর নেতৃত্বে সারকলিপী প্রদান করা হয়। সারকলিপিটি গ্রহন করেন বিভাগীয় কমিশনার এর পক্ষে তার একান্ত সচিব আফিফান নজমু।
স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশে ই-ভ্যালি, ডেসটিনি, যুবক, এহসান ইত্যাদি জাতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় রাজশাহীতে অবস্থিত “আমানা গ্রুপ” নানাবিধ ব্যবসা পরিচালনা করে গ্রাহকদের নিকট হতে প্রচুর টাকা বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। বিষয় গুলো অনতিবিলম্বে তদন্ত করে যথোপযুক্ত ও আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে হস্তক্ষেপ করার জন্য জনস্বার্থে এই এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
তারা উল্লেখ করেন ৭ই ফেব্রুয়ারি’২০২৪ তারিখে জাতীয় সংসদে সংসদ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্ব্যর্থ কন্ঠে উচ্চারণ করেছেন, বাংলাদেশে কোন তিন ফসলী জমি নষ্ট করে কোন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বা আবাসন সৃস্টি করা যাবেনা। গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী মন্ত্রী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভায় একই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে তা বাস্তবায়ন করার জন্য দেশের সকল ডেপুটি কমিশনারদের কাছে পত্র প্রদান করা হয়েছিলো। কিন্তু অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে, রাজশাহীতে আমানা গ্রুপ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “উত্তরায়ণ আমানা সিটি ” নামে একটা প্রকল্পের কাল্পনিক ম্যাপ বা নকশা তৈরি করে প্রায় ৬০০০ বিঘা জমিতে আবাসন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এই ৬০০০ বিঘা জমির সিংহভাগই তিন ফসলী জমি, কোনটি আবার দো-ফসলি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার যে, এই ৬০০০ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে বা দেখিয়ে যে আবাসন প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে সেই জমির অধিকাংশ মালিকই জানেন না, কিভাবে আমানা গ্রুপ তাদের জমিকে অন্তর্ভুক্ত করে কথিত আবাসন প্রকল্পের নামে জমি বিক্রি করছে। এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের অতি বহুল জনপ্রিয় দুইটি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভি ও বৈশাখী টিভি বেশ কয়েকটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করেছে। যেই প্রতিবেদনে রাজশাহীর সদ্য বিদায়ী ও বর্তমান ডেপুটি কমিশনার গণ তাঁদের স্বাক্ষাতকারে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন যে আমানা উত্তরায়ণ আবাসন প্রকল্পের নামে কোন অনুমোদন নেই বা দেয়া হয়নি।
এমনকি উল্লেখিত টিভি টেলিভিশন প্রতিবেদক জানিয়েছেন যে, এই ব্যাপারে আমানা গ্রুপের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি ফলে প্রতিবেদনটি সর্বৈব সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। এমনকি প্রচারিত টিভি প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে আমানা গ্রুপ আজ পর্যন্ত কোন বক্তব্য প্রচার করেনি। এদিকে যে সকল গ্রাহক উত্তরায়ণ আমানা সিটি আবাসন প্রকল্পের নামে কেবলমাত্র নকশা দেখেই প্লট বুকিং সহ মাসে মাসে কিস্তি প্রদান করছে তারা প্রতারিত হবেন বলে তারা আশংকা করছেন।
তারা আরো উল্লেখ করেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি বা অনুমোদন ছাড়া কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা কিম্বা গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবেনা মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, আমানা গ্রুপ গ্রাহকদের উচ্চ মুনাফা প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দেশ টেলিভিশন চ্যানেলে এই বিষয় নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হলে কনজিউমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা (ভোক্তা অভিযোগ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে পত্রালাপ করেন। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
আমানা গ্রুপের এহেন কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সরল প্রান অনেক গ্রাহকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং পি,কে হালদার গংদের মতো আমানা গ্রুপের কর্ণধাররা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাড়ি জমাবেনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সুতরাং সময় থাকতেই এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে যথোপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।