নিজস্ব প্রতিবেদক: সোনালী সুস্থ করে তার পরিবারের নিকট ফিরে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে তিনি ছাড় পেয়ে পরিবারের সাথে বাড়ি চলে যান। বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন সমাজ সেবী তৃতীয় লিঙ্গের জয়িতা পলি। পলি বলেন, সোনালী ২০১৫ সালে হারিয়ে যায়। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। গত চলতি বছরের গত ২৬জুন সন্ধ্যার দিকে ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমেই তিনি জানতে পারেন লক্ষীপুর শিক্ষা বোর্ড অফিসের বিপরিতে একজন ভারসাম্যহীন রোগী পড়ে আছে।
পওে তিনি সেখানে দ্রুত যান এবং দেখেন তার এক পায়ের অংশে পচন ধরেছে এবং পোকাতে খেয়ে নিয়েছে। এছাড়াও তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ ছিলো। পরে তিনি আরো কিছু লোকের সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সোনালীকে ভর্তি করান এবং তার চিকিৎসার সম্পন্ন দায়িত্ব গ্রহন করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন তৃতীয় লিঙ্গের লক্ষ্মী, সম্রাট ও রুসু। যদিও সোনালীর একটি পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। তবে তিনি এখন সম্পুর্ন সুস্থ।
পলি আরো বলেন, সর্বোপরি সোনালীকে তারা সুস্থ করেছেন। সেইসাথে তার পরিবারের সন্ধান বের করে সোনালীকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে তিনি অনেক খুশি ও মন থেকে অনেক শান্তি অনুভব করছেন। সোনালীর সন্তানরাও তার মাকে ফিরে পেয়ে অনেক আনন্দিত। সন্তানেরা তার মায়ের সেবাযত্ন করবে এবং তার মাকে নিয়ে তারা সুখী শান্তিতে বসবাস করবেন বলে আশা করে পলি। আগামী দিনগুলো তিনি যেন ভাল থাকেন তার জন্য দোয়া কামনা করেন।
এদিকে সোনালী বলেন, তিনি যে সুস্থ্য হবেন এবং আবার এই সুন্দর পৃথিবীকে প্রাণ ভরে দেখবেন তা আশাই করেনি। তার একটি পা চলে গেলেও তার কোন দু:খ নেই। তিনি যে পরিবারের নিকট আবারও ফিরতে পেরেছেন এর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। সেইসাথে যে সকল ব্যক্তি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন তাদের জন্য জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করেন এবং বেঁচে থাকা পর্যন্ত বিষয়টি তিনি মনে রাখবেন বলে জানান।