নিজস্ব প্রতিবেদক: এক গ্লাস ঘোল দূর করবে নানান কঠিন সমস্যা। সঙ্গে গরমে ঘোল পান করলে মিলবে একাধিক উপকার। গরম মানেই একাধিক শারীরিক জটিলতা। গরমের সময় পেটের সমস্যা, ঘাম, ক্লান্তি ভাব, বমি ভাব, হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে নানান সমস্যা চলতেই থাকে। এই সকল সমস্যা দূর করতে কে কী করবেন তা ঠিক করে উঠতে পারেন না। সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গরমের সময় প্রতিদিন এক গ্লাস করে ঘোল পান করলে দূর করবে তিন কঠিন সমস্যা। সঙ্গে গরমে ঘোল পান করলে মিলবে একাধিক উপকার।
অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে বাটার মিল্ক বা ঘোল। গরমের সময় পেট ফাঁপা কিংবা অ্যাসিডের মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এই সময় শরীরে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। এর থেকে মুক্তি পেতে ঘোল খাও য়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এতে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড। যা পাকস্থলীর অম্লতাকে স্বাভাবিক করে তোলে। তাই আদা ও গোলমরিচ যোগ করে ঘোল বানিয়ে পান করলে মিলবে অনেক উপকার।
দাঁত ও হাড়ের জন্য উপকারী হচ্ছে ঘোল। এটি ক্যালসিয়ামে পূর্ণ। যা মানব দেহের হাড় শক্ত করে। রোজ পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম খেলে হাড় মজবুত হবে। তেমনই অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যা দূর হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে বাটার মিল্কের গুণে। এটি প্রতিদিন খেলে রক্তচাপ কমায়। হার্ট ভালো রাখে। তাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়ম করে ঘোল খান। এটি স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে।
গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন। শরীর গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকে। তেমনই গরমের সময় শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। তএ সকল অভাব দূর করতে নিয়ম করে ঘোল পান করলে শরীর, পেট ঠান্ডা রাখে।
তেষ্টায় প্রাণ হাঁকুপাকু তখনই এর খোঁজ পড়ে। বাঙালিরা বলে ঘোল, লস্যি। অবাঙালিরা বলে ছাঁচ। সবই ওই দই দিয়ে। আমাদের শরীর ঠান্ডা রাখতে দারুণ কাজ করে এই ঘোল। ভিটামিন, খনিজে পূর্ণ ঘোলের গুণাগুণও বহু।
ঘোলে খুব কম ফ্যাট থাকে। তাই হার্টের জন্য এটা ভালো। উপাদান প্রোটিন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যালোরিতে খুব কম। স্পাইসি খাওয়ার খাবার পর একগ্লাস ঘোল স্টমাক ও অন্ত্র পরিষ্কার করে দেয়। খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। পরিপাকে সমস্যা, অম্বল থেকে মুক্তি দেয়। আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড থাকে। যা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে। শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচায়। শরীর ঠান্ডা রাখে এবং প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকায় হাড়ের গঠনের জন্য ভালো।
মধ্য চৈত্রের কাঠফাটা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে রোজাদারদের প্রাণ। তাই দিন শেষে পানি ও পানিজাতীয় খাবারের প্রতি টান বাড়ছে। তাই ইফতারে ঘোল হয়ে উঠেছে অমিয়। ইফতারের পাতে যত কিছুই থাক এক গ্লাস ঘোল না হলে যেনে পরিপূর্ণ তৃপ্তি মিলছে না অনেক রোজাদারের। কারণ সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে যে কী পরিমাণ পিপাসা পায়, সেটা রোজাদাররাই উপলব্ধি করতে পারেন। রোজাদারের সেই তৃষ্ণাতে তৃপ্তির জোগান দিচ্ছে রাজশাহী মহানগরীর কিছু ঘোল ব্যবসায়ী।
প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে শুরু হয় এই ঘোল বিক্রির পালা। বেলা যতো গড়ায় ক্রেতার উপস্থিতি ততোই বাড়তে থাকে। মূলত দুধ, বিশুদ্ধ পানি এবং অল্প পরিমাণ খাবার সোডা দিয়ে তৈরি করা হয় তৃপ্তিদায়ক এই ঘোল।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ঘোল বিক্রেতা উত্তম কুমার জানান, প্রতিদিন তিনি ১৮০ থেকে ২০০ লিটার ঘোল বিক্রি করেন।
সাহেববাজারেই থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের নিচে বসা ঘোল বিক্রেতা গৌর ঘোষ জানান, রমজানে তিনি ৮০ থেকে ৯০ লিটার ঘোল তৈরি ও বিক্রি করেন। ঘোলের পাশপাশি তিনি মাঠাও বিক্রি করেন। তবে মাঠার দাম একটু বেশি।
এখানে ছাড়াও মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়কের মোড়ে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ এই ঘোল। এরমধ্যে কুমারপাড়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে, সাগরপাড়া মোড়, মনিচত্বর ও কাশিয়াডাঙ্গা অন্যতম। প্রতিদিন বিকেল থেকে শুরু করে সন্ধ্যার ইফতার পর্যন্ত এই স্পটগুলো থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রোজাদাররা সংগ্রহ করেন তাদের পছন্দের ঘোল।