নিজস্ব প্রতিবেদক: পিছিয়ে পড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে স্মারকলিপি প্রদান পবা – মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ এর স্মারকলিপি প্রদান করেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের প্রতিনিধিগণ। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা, কোষাধ্যক্ষ মিস জুলি, অত্র সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার রায়হানুল হক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রকল্পের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী মৌসুমী খাতুনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
স্মারলিপিতে তারা উল্লেখ করেন বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীর জনগণ অত্যন্ত অবহেলিত ও অনাদৃত। যারা অত্যন্ত মানববেতর জীবন যাপন করছে। বহু শতাব্দী ধরে উপমহাদেশের ইতিহাসে বিভিন্নভাবে হিজড়াদের উপস্থিতি দেখা যায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে হিজড়াদের বিশেষ এক জায়াগা ছিলো । ভারত,নেপাল, পাকিস্থান ও বাংলাদেশর কিছু অংশে প্রাচীনকাল থেকেই হিজড়াদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি চালু ছিলো । এতদসত্ত্বেও কতিপয় নেতিবাচক প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ুতার প্রেক্ষিতে তারা আজ ঘৃণা, লাঞ্চনা অপমান আর বৈষম্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সমাজের অন্তরালে থাকা এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, এইচআইভি প্রতিরোধ, জীবনমান উন্নয়ন ও মানবাধিকার বিষয়ে ২০০২ সাল থেকে দিনের আলো হিজড়া সংঘ বাংলাদেশ সরকারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তারা আরো উল্লেখ করেন এর মাধ্যমে সরকারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে হিজড়া সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ অন্যতম । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ২০১৩ সালে ১১ নভেম্বর হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ঘোষনা ছিল অন্যতম মাইফলক। যা হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে । বর্তমানে এই জনগোষ্ঠী যেসব কার্যক্রমে নিয়োজিত আছে যেমন ছল্লা তোলা, বাধাই বা টাকা তোলা, যা সমাজের চোখে দৃষ্টিকটুর। এর জন্য তারা প্রতিনিয়ত বৈষম্যমের শিকার হয় । দিনের আলো হিজড়া সংঘ বিশ্বাস করে প্রান্তিকতা ঘুচিয়ে হিজড়া জনগোষ্ঠী মূলধারায় সম্পৃক্ত কর, সমাজে তাদের স্বাভাবিক গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর এবং তাদের জীবনমানে লক্ষ্যে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
স্মারকলিপিতে তারা আরো উল্লেখ করেন হিজড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদার বৃদ্ধি এবং তাদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা প্রয়োজন, যাতে তারা সনাতনী পেশার বাইরে এসে উদ্যোক্তা হিসেবে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে। এই অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের কাছে দেশের জনগণ হিসেবে হিজড়াদের কিছু দাবি আছে, যা তাদের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে সহায়তা করবে, হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ জন্য ন্যায় দাবি জানান তারা।
সর্বোপরি , আইনের অন্তর্ভুক্ত করে সেই আইন গুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করা, কর্মসংস্থান, সংগঠনের জন্য জমি ও গৃহনির্মাণের ব্যবস্থা করা, শিক্ষা , চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি প্রশিক্ষণসহ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা, হিজড়া সুরক্ষা আইন ও হিজড়া নীতিমালা তৈরীর দাবী জানানো হয়।