নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শিক্ষা নগরী। এছাড়াও এই সিটির আরো অনেক উপাধী আছে। যেমন ক্লিন সিটি, গ্রীন সিটি, হেলদি সিটিসহ আরো নানা উপাধী। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে কিন্তু এই সিটির উপাধীগুলো হারাতে বসেছে। কারন রাজশাহীতে বর্তমানে একযোগে চলছে নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ। আর এই কাজের জন্য প্রায় প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ করা হয়েছে। এক সাথে চলছে ফ্লাইওভারের কাজ। এই কাজের জন্যই মূলত: বন্ধ করা হয়েছে রাস্তাগুলো। শুধু তাইনয় শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক বেড়িকেট বসিয়ে যানবাহন চলাচল সিমিত করায় আরো বেশী বিড়ম্বনায় পড়েছে জনগণ ও যানবাহন চালকগণ। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের গাছ কর্তন ও ধুলাবালির ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।
রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এই শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাতায়াত করে। শুধু তাইনয় এই শহরের উপর দিয়ে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলে যায় চাপাইনবাবগঞ্জ। যায় বর্ডার এলাকায়। আর এ সকল যানবাহনকে এখন অনেক রাস্তা ঘুরে ঘুরে যেতে হয়। এছাড়াও শহরের জনগণকেও একই ঝামেলা সহ্য করতে হচ্ছে। প্রতিদিন এই ঝামেলায় নাজেহাল হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। সেইসাথে রিক্সা, অটোরিক্সাসহ প্রতিটি যানবাহের ভাড়া ও ব্যায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন।
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শামীম, দামকুড়া এলাকার রাজু, ধুতরাবোন এলাকার লিটন, মোল্লাপাড়ার এলাকার শাহজাহান আলী, নাজমুল হোসেন এবং সাহেব বাজারে আসা বাগমারার আব্দুল্লাহ, নওহাটা এলাকার আবু ইউসুফ, আমিন, কোহিনুর, আসালাম ও আরফিুলসহ আরো অনেক বলেন, কাশিয়াডাঙ্গা হতে রহরমপুর সিটি বাইপাস অল্প কিছুদিন পূর্বে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে সংস্কার করা হয়। সেইসাথে নুতন করে সবানো হয় সুন্দর লাইটিং পোল ও লাইট। সে সময়ে মানুষ অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছেন। এখন সেই রাস্তার উপরে চলছে একসাথে দুইটি ফ্লাই ওভারের কাজ। এই কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না বলে জানান তারা। এই মুহুর্তে কেন ফ্লাইওভার এটা তাদের প্রশ্ন। আর যদি ফ্লাইওভার করার জন্য পরিকল্পনা যতি পূর্বেই করা হতো,তাহলে কেন রাস্তা সংস্কার করা হলো?
তারা আরো বলেন, ফ্লাই ওভার শুধু সিটি বাইপাশেই নয় চলছে বন্ধগেট ও বিন্দুর মোড় রেলগেট। এজন্য প্রতিটি রাস্তা বন্ধ করতে হচ্ছে। এতে করে মানুষ পড়েছে অনেক কষ্টে। তারা আরো বলেন, শুধু ফ্লাইওভার নয়, নগীর প্রায় রাস্তাতেই বসানো হয়ে ট্রাফিক বেড়িকেট। দুপুর পরে হতে ঝাউতলা থেকে শুরু করে পশ্চিম এলাকার যত রিক্সা, অটোরিক্সা, মাইক্রো ও কারসহ অন্যান্য যানবাহন রয়েছে তারা সরাসরি ঝাউতলা হয়ে লক্ষ্মীপুরে যেতে পারছেনা। যেতে হলে প্যারামেডিকেল হয়ে ঘোড়াচত্বর দিয়ে ঘুরে তার পরে লক্ষ্মীপুরে যেতে হচ্ছে। এতে করে রোগিরা পড়েছে বেশী অসুুবিধায়। পাঁচ মিনিটের রাস্তা হয়ে যাচ্ছে আধা ঘন্টার।
তারা আরো বলেন, একজন মুমুর্ষ রোগি নিয়ে কেউ ঝাউতলা হয়ে লক্ষ্মীপুর যেতে পারেনা। ট্রাফিক যানবাহন ঘুড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তারা। শুধু লক্ষ্মীপুর নয় এমন অবস্থা রাজশাহী সাহেববাজার, গণকপাড়া, মালোপাড়া স্যান্ডেলপট্টি ও সোনাদিঘি মোড়ের। সেখানে চব্বিশ ঘন্টা বেড়িকেট থাকায় জণগণ বেশী অসুবিধায় আছে। এক কথায় রাজশাহীর জনগণ এ মুহুর্তে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ইচ্ছা করলেই তারা সহজে কোথাও যেতে পারছেনা বলে উল্লেখ করেন তারা। সেইসাথে সকল প্রকল্প দ্রুততার সাথে শেষ এবং সকল স্থান থেকে ট্রাফিক বেড়িকেট অপসারণ ও ফুটপাত মুক্ত করে জনগণকে এই অবরুদ্ধে অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান তারাসহ সাধারণ জনগণ।