নিজস্ব প্রতিবেদক: কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের আওতাধীন আলোকিত শিশু প্রকল্পের মাধ্যমে ভদ্রা আবাসিক এলাকার পদ্মা লেক এলাকায় ড্রপ ইন সেন্টার (ডিআইসি) পরিচালিত হচ্ছে। ১২ মার্চ ২০২৩ হতে ড্রপ ইন সেন্টার এর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ড্রপ ইন সেন্টার থেকে নিদির্ষ্ট ধরনের জনগোষ্ঠীকে(পথ শিশু) তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া হয়ে থাকে। ড্রপ ইন সেন্টারটি পথ শিশুদের সেবাদানের জন্য তাদের সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। পথ শিশুদের জন্য এটি একটি নিরাপদ স্থান। পথ শিশুরা সপ্তাহে ছয়দিন এখানে সেবা নিতে পারে। শিশুরা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ডিআইসিতে আসতে শুরু করে বলে জানান কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের আলোকিত শিশু প্রকল্পের জুনিয়র প্রোগাম অফিসার ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সেন্টারে আসার সাথে সাথে শিশুরা হাত মুখ ধূয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ভেতওে প্রবেশ করে হাজিরা খাতাতে স্বাক্ষর দেয় তারা। ডিআইসিতে পথশিশুদের সকালের টিফিনসহ দুপুরে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পথ শিশুদের কর্মট কওে গড়ে তোলার জন্য ডিআইসি এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেশন দেওয়া হয় যেমন- নৈতিক ও আধ্যাতিক শিক্ষা, গল্প বলা, ছড়া, কবিতা, ছবি আঁকা, রঙিন কাগজ ও সুতা চট দিয়ে হস্তশিল্প শেখানো হয়। সেইসাথে বেসিক অক্ষর জ্ঞান শেখানো হয়, যাতে করে শিশুরা তাদের জীবনে চলার পথে কাজে লাগাতে পারে। এছাড়াও শিশুরা এখানে বিনোদনের সুবিধা নিতে পারে, গোসল করতে এবং বিশ্রাম নিতে পারে।
ফরিদুল আরো বলেন, ডিআইসিতে একজন প্যারামেডিক ডাক্তার নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন। ডিআইসি এবং ওপেন এয়ারসহ এ পযর্ন্ত সর্বমোট ১৬০ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে ১০ জন শিশুকে রেফার্ড করা হয়েছে। বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা পাইয়ে দেয়া হয়েছে ৬জন শিশুকে। বিনা মূল্যে ৪ জন শিশু কেভিসিটি টেস্ট করানো হয়েছে। একজন শিশুকে মাদকাসক্ত পূর্ণবাসন কেন্দ্র বারাকাতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও রিসোর্স ইনটিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এ একজন শিশুকে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এখানে শুধু তারা লেখা-পড়া ও খাওয়া নয়, তারা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করে এবং বিভিন্ন সমস্যা সহভাগিতা কওে তারা। পথশিশুদের বিনোদনের জন্য একটি টেলিভিশন ও নানা ধরনের খেলার সামগ্রীর(যেমন- কারাম, লুডু,দাবা, খবরের কাগজ ও গল্পের বই) ব্যবস্থা করা হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে শিশুরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। এই সকল সমস্যা ড্রপ ইন সেন্টারে আসা সেবাগ্রহীতাদের জন্য যৌন রোগ সংক্রমন কিংবা সাধারণ অসুখ-বিসুখের চিকিৎসার কাউন্সিলিং করা হয়। ডিআইসিতে শিশুর আগমনের সাথে সাথে মাদার রেজিষ্টারে নাম তালিকাভূক্ত হয়। মার্চ হতে অক্টোবর পযর্ন্ত ১৫৩ জনশিশু ডিআইসিতে সেবাগ্রহণ করেছে। ডিআইসি রাজশাহী পথ শিশু/বস্তির শিশুদের নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডিআইসিতে স্থানীয় দাতা এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্খীদের নিকট হতে অনুদান সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। একজন সিপিসি সদস্য (মাসুদ হোসেন) তিনি সপ্তাহে একদিন ডিআইসিতে বিনাপারিশ্রমিকে শিশুদের ছবি আঁকা শেখাচ্ছেন। ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজ, রাজশাহীর মডিআইসি পরিদর্শনে আসে এবং তিনি শিশুদের সাথে সেশনে শুভেচ্ছা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সিপিসি কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রত্যেক দুইমাস অন্তর সভা করা হয় বলে জানান তিনি।

এছাড়াও ডিআইসি-তে দৈনিক আগমন ও নির্গমনের রেজিষ্টার অন্যান্য সেবা প্রদান রেজিষ্টার (কাউন্সিলিং, চিকিৎসা, শিক্ষা, শিশুদের ব্যক্তিগত ফাইল) সংরক্ষিত আছে। শিশুরা নিয়মিত সেন্টারে যাতায়াতের ফলে মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকছে। তারা মিথ্যা কথাবলা ও চুরি করছে না। পরিবারে সময় দিচ্ছে এবং বাবা-মায়ের কথা শুনছে। দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। পথ শিশুদের উন্নয়নে এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেতে এই প্রকল্প অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আগামীতে এই প্রকল্প চলমান থাকলে শিশুরা মূল স্্েরাতধারায় ফিরে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রকল্পের সুবিধাভোগি শিশুরা বলে, সকাল থেকে তারা টোকাইসহ অন্যান্য কাজ করতো। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট অপকর্মও করতো। এখন তারা এখানে সম্পৃক্ত হয়ে সেই অবস্থা থেকে দূরে আছে। এখন তারা অনেক ভাল আছে। তাদের মত পথ শিশুদের সুবিধার্থে আগামীতে এই প্রকল্প চলমান রাখার জন্য দাতা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান পথ শিশুরা।