নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পপি খাতুন ভোটের আগে কীভাবে ‘রকেটের গতিতে’ তাঁর বয়স চার বছর বাড়িয়েছেন, এর সরেজমিন তদন্ত করেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজশাহী গিয়ে সার্বিক বিষয় সরেজমিনে তদন্ত করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য নেন তাঁরা।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (প্রবাসী ও নিবন্ধন) আব্দুল মমিন সরকার। আর কমিটির সদস্যসচিব জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মুদ্রণ ও বিতরণ শাখার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম ইকবাল হাসান। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী প্রোগ্রামার (উপাত্ত ব্যবস্থাপনা শাখা) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাসনদ, পাসপোর্ট, ভোটার তালিকা, ফেসবুকসহ সবকিছুতেই থাকা জন্মতারিখ অনুযায়ী পপি খাতুনের বয়স ২২ বছর। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের আগে জন্মতারিখ সংশোধন করে রাতারাতি পপির বয়স বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ বছরে। আবেদন করার এক দিন পরই তাঁর বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় এবং অনলাইন পোর্টালে খবর প্রকাশিত হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঐ সকল সংবাদের সূত্র ধরে ১৯ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (অপারেশনস) ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ‘রকেটের গতিতে’ কীভাবে পপির বয়স বাড়ল তা তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। তাঁরা পবা উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান প্রামাণিক, পবার হুজরিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও বিজয়ী প্রার্থী পপি খাতুনের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। সবার কাছ থেকে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অনলাইন সার্ভার থেকে পপির বয়স বৃদ্ধি সংক্রান্ত সব নথিও দেখেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (প্রবাসী ও নিবন্ধন) আব্দুল মমিন সরকার বলেন, ‘আমরা সবকিছু তদন্ত করে দেখেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আমাদের ফাইন্ডিংস ঢাকায় ফিরে প্রতিবেদন আকারে দেব। সেই সঙ্গে আমাদের কিছু সুপারিশ থাকবে। সে অনুযায়ী কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে পপি শুধু বয়সই বাড়ায়নি তার বিভিন্ন ধরনের অশ্লিল ছবি ফেইসবুকে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। ঐ সকল ছবি ও ভিডিওদে দেখা যায় পপি সিগারেট মুখে নিয়ে সেফলি তুলেছেন। আবার আরেকটি ভিডিওতে দেখা অশ্লিল পোষাকে তাঁকে হিন্দি গানের সাথে নাচতে। এনিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সেইসাথে পুরো উপজেলাসহ জেলাতেও চলছে নিন্দার ঝড়। পপির বাড়ি হুজরীপাড়া ইউনিয়নের ধর্মহাটা গ্রামে। তিনি বর্তমানে রাজশাহী সরকারী সিটি কলেজে অনার্সে লেখাপড়া করছেন। তিনি মূলত একজন টিকটকার বলে জানা গেছে।