নিজস্ব প্রতিবেদক: বায়ু নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে সম্প্রতি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) “লেটস ব্রিদ ওয়েল ক্লিন এয়ার ক্যাম্পইন ডিজাইন চ্যালেঞ্জ” এর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৩৫ টিরও বেশি দল এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। যার মধ্যে থেকে সেরা দশটি দলকে নির্বাচন করা হয়। এই দশটি দলের মধ্যে একটি দল “আইপিই পোকায়োকে পাওনিয়ারস্”, এটি রুয়েট আইপিই ক্লাব এর একটি দল। দলে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন সদস্য- তানভীর আহমেদ ইমন (দল নেতা), আর রাফিউল হক অয়ন, আবু বকর সিদ্দিক, মায়িশা ফারিহা মিথিলা ও সামিয়া ইসলাম। তারা মূলত পনেরো দিনের ক্যাম্পইন ডিজাইন করে। তাদের ক্যাম্পইনের কার্যকলাপ শুরু হয় গত ২৫ মে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো প্রায় ১০০ জন রুয়েট শিক্ষার্থীসহ ক্লাবের মডারেটর আরিফুল হক, প্রেসিডেন্ট মৃদুল হাসান অর্ণব ও জেনারেল সেক্রেটারি দীপায়ন সাহা দীপ। তারা এই পনেরো দিনে অফলাইনে এবং অনলাইনেও ক্যাম্পেইন প্রচারণা চালায়। তারা নিজেদের ক্যাম্পইনকে অনলাইনে অধিকতর মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে একটি ফেসবুক পেইজ “এয়ার ক্যাম্পাস” এবং ইন্সটাগ্রাম আইডি “এয়ারক্যাম্পাস- আইপিই” এ বায় দূষণের কারণ ও প্রতিকার মূলক বিভিন্ন তথ্য ভিডিও এবং ইনফোগ্রাফিক্স এর মাধ্যমে প্রচার করে থাকে।
তারা ইতোমধ্যে একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করে ফেলেছে। যার মাধ্যমে প্রতিদিন বায়ু দূষণের মাত্রা কোন জায়গায় কত তা জানা যায়। এর পাশাপাশি তারা অনলাইনে একটি সেশম নেয়ার ব্যবস্থা করে। যেখানে ১৭০জনেরও বেশি, বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থী রেজিস্টেশন করে এবং যোগদান করে ১০০ জন। সেশনে প্রধান বক্তা ছিলেন অংসিংহ্লা মারমা, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (সংক্ষেপে “বিনা”) এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, জলবায়ু অ্যাকশন প্ল্যাটফর্মে যুব ক্ষমতায়ন এর পরিচালক,তরুণ জলবায়ু কর্মী।
অফলাইন কার্যক্রম হিসেবে দলটি অগ্রণী স্কুল ও কলেজে একটি কর্মশালার আয়োজন করে। তাদের কর্মসূচি শুরু হয় শিক্ষার্থীদের সমাবেশ এর মধ্য দিয়ে। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা একটি শ্বাসের ব্যায়ামও করে। কর্মশালায় হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত এমন অনেক শিক্ষার্থীই ছিল। তারা বায়ু দূষণের কারণে হওয়া তাদের দৈনন্দিন হয়রানির কথা জানায়। অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করলে জানা যায় যে,“তারা রোজ স্কুলের পাশে থাকা বাস স্ট্যান্ড এর বাসের কালো ধোয়া,আশেপাশে চলমান নির্মাণ কাজ, এসবের কারণে ভোগান্তির শিকার হয়”। এরপর তাদের বাড়ির ভেতরে এবং বাহিরে উভয় ক্ষেত্রেই বায়ু দূষণ এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো হয়।
পাশাপাশি কীভাবে তারা বায়ু দূষণ প্রতিরোধ করতে পারে এবং কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাদের বাড়ির ভেতরের বায়ু পরিশোধন করা সম্ভব। এসব শিক্ষার্থীদের জানানো হয় কর্মশালার মাধ্যমে। কর্মশালা শেষে, ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই কয়েকজন স্কুল প্রতিনিধি নির্বাচন করে “ এয়ার অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে “আইপিই পোকায়োকে পাওনিয়ারস্” দল। যা এই কর্মশালায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী যোগদান করে। এছাড়া “আইপিই পোকায়োকে পাওনিয়ারস্” দল রুয়েট ক্যাম্পাসে চলমান নির্মাণ কাজের কারণে বায়ু দূষিত হতে দেখে। সেইসাথে নির্মাণকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও প্রচারণা চালায় বলে জানা যায়।