নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম রানীদিঘীপাড়ার মৃত সোলেমান সরকারের ছেলে আরশেদ আলী আর.এস ২৭৫২ দাগের ১৬শতক সম্পত্তির মালিক হন। কিন্তু ভূলক্রমে আর.এস রেকর্ডে উক্ত সম্পত্তি রেলওয়ের নামে রেকর্ড হয়। এই রেকর্ড বাতিলের জন্য ২০০২ ইং সালে রাজশাহী নিম্ন আদালাতে মামলা করলে বিজ্ঞ বিচারক যাচাই বাছাই অন্তে আরশেদ আলীর পক্ষে ডিগ্রী প্রদান করেন। এই ডিগ্রীর প্রতিবাদে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আপিল করেন।পরবর্তীতে মামলাটি পুঠিয়া কোর্টে বদলি হয়। যার নতুন নম্বর ২৭৮/১১।
২০১৩ সালে পুঠিয়া কোর্ট হতে আরশেদ পুণরায় ডিগ্রী পান। এর বিরুদ্ধে আবারও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রাজশাহী জেলা জজ আদালতে আপিল করে। যার নম্বর ৩৩/১৩। জেলা জজ কোর্ট মামলাটি পূণঃ বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত প্রদান করেন। উক্ত মামলা কোর্টে শুনানী শেষে অত্র আদালতের বিচারক আবারও আরশেদ আলী পক্ষে ডিগ্রী প্রদান করেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আবারও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জজ কোর্টে ১৫৭/১৮ আপিল দায়ের করেন। এই আপিলের রায় আরশেদ আলীর বিপক্ষে চলে যায়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আরশেদ আলী পুণরায় হাইকোর্টে আপিল করেন। যার নম্বর ৪২০৫/২২ সিভিল ডিভিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট ১৭ অক্টোবর ২০২২ ইং তারিখ ছয় মাসের জন্য নিম্ন আদালতের রায়ের স্থাগিতাদেশ প্রদান করেন। সেইসাথে ঐ সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে সে, অবস্থাতে রাখার আদেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারী শুনানী করে আরশেদ আলীর তৃতীয়বারের মত পক্ষে রায় প্রদান করনে।
নিম্ন আদালত ও হাই কোর্টের রায় থাকা সত্বেও হড়গ্রাম ও মোল্লাপাড়ার কিছু ভূমিদস্যু ১৩ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখ রাতের অন্ধকারে অত্র সম্পত্তি ভরাট শুরু করে। সম্পত্তিটি বর্তমানে জলাশয় হিসেবে চিন্থিত রয়েছে। ভরাট করতে বাধা দিতে গেলে ভূমিদস্যুরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং জমিতে না আসার জন্য হুমকী দেয় বলে জানান আরশেদ। এ অবস্থায় প্রাণ ও সম্পত্তি রক্ষার্থে আরশেদ আলী বাদী হয়ে আরএমপি কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ সত্ত্বেও ভূমি দস্যুরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে ভরাট অব্যহত রাখলে পুলিশ এসে বাধা প্রদান করনে। সেইসাথে এই সম্পত্তিতে ভূমিদস্যুদের না আসার জন্য পুলিশ নির্দেশ দেন।
জমির মালিক আরশেদ আলী বলেন, তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। দীর্ঘদিন পূর্বে তিনি এই সম্পত্তির রেকর্ড মূলে মালিক হন। সে থেকেই অত্র সম্পত্তি তাঁর দখলে রয়েছে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা এর পূর্বেও বিভিন্ন সময়ে সম্পত্তিটি দখল করার জন্য পাঁয়তারা করেছে। এখনো তা চলমান রয়েছে। তাঁর সম্পত্তিটি রক্ষা করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন।