নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ এবং বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে ভাড়া নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নির্ধারিত ৬ টাকা সর্বোচ্চ ভাড়া, এটি নির্দিষ্ট ভাড়া নয়। তাই রাজশাহীর ভৌগলিক অবস্থা ও হিমাগার পরিচালনার খরচ বিবেচনায় জেলা সুপারিশ কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত। শুক্রবার বিকেলে পবা উপজেলার তকিপুরে অবস্থিত সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। তিনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হিমাগারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। তাঁদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর আগে সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।
জেলা সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া নয়, এটি সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমা। ফলে এর চেয়ে কম ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। রাজশাহীর জন্য গঠিত জেলা সুপারিশ কমিটি হিমাগার পরিচালনার খরচ ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেজি প্রতি ৫ টাকা ভাড়া এবং বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তাঁরা ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজশাহীর জেলা সুপারিশ কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। কমিটি হিমাগারগুলোর পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সুপারিশটি করেছে। তাই রাজশাহীর বাস্তবতায় ওই সুপারিশ কার্যকর করা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা পর্যন্ত হয়। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এরপর থেকেই যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করে আসছেন।
ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আলুর দাম কম থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে রয়েছেন। এর মধ্যে হিমাগারের বাড়তি ভাড়া তাঁদের ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। সংরক্ষণের ত্রুটিতে আলু নষ্ট হলেও অনেক ক্ষেত্রে ওই আলুর ভাড়াও দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি রাজশাহীর হিমাগার মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক একে অন্যের পরিপূরক। তাই বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের কারণে সম্পর্কের তিক্ততা তাঁরা চান না।
ইফতেখারুল ইসলাম আরও বলেন, আলুর চাষ ও ব্যবসায় ধারাবাহিক লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আলুর চাষ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে হিমাগারগুলোও পর্যাপ্ত আলু পাবে না। তাই এখনই চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে হিমাগারগুলোতে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন থেকে রাজশাহীর সব হিমাগার মালিকের প্রতি জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া এবং বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।