নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রেমের বয়স হয়েছে তিন বছর। এর মধ্যে প্রেমিক বিয়ের কথা বলে তাঁকে বহুবার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় প্রেমিকার নিকট হতে নিয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। কিন্ত এখন প্রেমিক তাকে আর সহ্য করতে পারছেন না। এছাড়াও বিয়ের দাবীতে প্রেমিকা চলতি বছরের অক্টোবর মাসে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেন। এতেও কোন লাভ হয়নি। এমটি বলছিলেন প্রেমিকা গোলাপী খাতুন। প্রতারণার জন্য প্রেমিকের বিরুদ্ধে আরএমপি রাজপাড়া থানায় একটি অভিযোগও করেছেন বলে জানান গোলাপী।
গোলাপী বলেন, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের ধলাট গ্রামের মোন্তাজ আলীর ছেলে মেহেদী হাসানের সাথে তার দীর্ঘ তিন বছর ধরে সম্পর্ক। মেহেদী প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে চলতি বছরের ১৬জুলাই চাকরি পাওয়ার পরে বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা করছে বিয়ে না করার জন্য। এই তিন বছর ধরে মেহেদী তার নিকট থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়েছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মেহেদী তার আত্মীয়ের বাড়ীতেও বেড়াতে নিয়ে গেছেন। আত্মীয় স্বজন তার মা বাবা, চাচাতো ভাবি ও ভাইয়েরা বিষয়টি জানেন বলে দাবী করেন তিনি।
চাকরী পাওয়ার পরে মেহেদি তার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ চাকরীর জন্য আবেদনের টাকাসহ সকল খরচ তিনি বহন করেছেন। এখন সে তার সাথে প্রতারণা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিয়ের আশ^াস পাওয়ায় এর মধ্যে বেশ কয়েকবার মেহেদীর বাড়িতে গেলেও তারা তার সাথে দেখা করেন নি। শেষে তিনি অক্টোবর মাসে অনশনে বসেন তিনি। কিন্তু মেহেদীর মা জোর করে বাড়ী থেকে বের করে দেন। এ সত্বেও বসে থাকলে যতখন মেহেদী হাসান বিয়ে না করবে, ততদিন এই ভাবে অনশন চালিয়ে যাবেন ঘোষনা দিলে মেহেদীর পরিবারের বাড়ীর সমস্ত জানালা দরজা বন্ধ করে বাড়ী থেকে সবাই দুরে কোথাও গিয়ে আছে বলে জানাযায়।
প্রেমিক মেহেদি হাসানের প্রতিবেশি আব্দুস সালাম অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেন এবং দরজায় ধাক্কা ধাক্কি করার পরেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়া তিনি চলে আসেন বলে জানান গোলাপী। তিনি আরো বলেন, বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের শিবপুর হাট ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল মালেকসহ অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও বিষয়টি জানেন। তিনি আরো বলেন, মেহেদি তার জীবন শেষ করে দিয়েছে। এই ধরনের প্রতারান যেন আর কারো সাথে করতে না পাওে সেজন্য মেহেদিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান গোলাপী।
এ বিষয়ে প্রেমিক মেহেদী হাসান বলেন, ঐ নারীর সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই। কারন তিনি তাকে চেনেন না বললেও পরে অবশ্য গোলাপীকে চেনেন বলে স্বীকার করেন। গোলাপী যা করছেন এবং যা বলছেন তা সঠিক নয়। তাকে হয়রানী করার জন্যই এটা করছেন। তিনি ঐ নারীর নিকট হতে কোন টাকা নেননি বলেও জানান। সেইসাথে তাকে হয়রানীর প্রতিবাদে পরে গোলাপীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে উল্লেখ করেন মেহেদি।