নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স এবং খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা আদায় এবং মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক টাকা আদায় এবং মারপিটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী সিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদে এমনটাই অভিযোগ করেন ভূক্তভোগি মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স চালকগণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাইক্রো এবং এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও ব্যবসায়ী ডলার বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর সাদ্দাম হোসেন ও পটলা দীর্ঘদিন হতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃত মানুষকে বহন করা গাড়ি নিয়ে সিন্ডিকেট, প্রতিটি মাইক্রো ও এ্যাম্বলেন্স ভাড়া এবং ক্রয় বিক্রয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজী করে আসছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন তিনি একজন মাইক্রো এবং এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাস্তার উপরে মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স রেখে ভাড়া দিয়ে সংসার নির্বাহ করেন। তার মত অনেক মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও মালিকগণ এইখানে যানবাহন রেখে ভাড়া দিয়ে থাকেন। এই যানবাহন রাখার জন্য প্রতিমাসে রাজশাহী মহানগরীর, রাজপাড়া থানাধীন সিপাইপাড়া ঘোষপাড়া এলাকার মৃত টুটু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে যানবাহন প্রতি এক হাজার করে টাকা দিতে হয়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন শুধু তাইনয় কোন মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় বিক্রয় করলেও বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা তাদেরকে চাঁদা দিতে হয়। আর এই চাঁদা না দিলে সাদ্দাম নিজে এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারপিট ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আর এই চাঁদার টাকা উত্তোলন করেন, রাজপাড়া থানাধীন আলীর মোড় এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামান পটলা। এনিয়ে তার সাথে ঐ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিন থেকে মতবিরোধ চলে আসছিলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল রোববার দুপুর অনুমান ২টার দিকে রাজপাড়া থানাধীন সিপাইপাড়াস্থ সোহেল এর গ্যারেজে তিনি তার মাইক্রো এর মালামাল ক্রয় করার সময় সাদ্দাম ও পটলাসহ আরো দুই থেকে তিনজন তাকে দেখতে পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সাদ্দাম হোসেন উত্তেজিত হয়ে তাকে এলোপাথারীভাবে কিল, ঘুষি, চর থাপ্পর ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম মারতে থাকে। এতে তিনি আহত হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শুধু মারপিট নয় হাসপাতালের সামনে মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স রাখতে হলে প্রতিমাসে এক হাজার করে টাকা দিতে হবে। সেইসাথে মাইক্রো ও এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় বিক্রয় করলে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকী দেন সাদ্দাম। এ সময়ে আশে পাশের জনগণ এগিয়ে আসলে সাদ্দাম তার দলবল নিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় সাদ্দাম প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেন।
তিনি আরো উল্লেখ এটা কোন মাইক্রো স্ট্যান্ড নয়। এখান থেকে সরকার কোন প্রকার রাজস্ব পান না। এই টাকা সম্পূর্ণটাই সাদ্দাম গংরা খায়। শুধু তাইনয় এই সাদ্দাম গংরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের সামনের দোকানপাট ও পাবলিক লাইব্রেরীর সামনের সব খাবারের হোটেল থেকে চাঁদা আদায় করে। তারা মাসে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা এখান থেকে আদায় করে। দোকনদার ও হোটেল মালিকগণ চাঁদা দিতে দেরি করলে তাদের উপরেও পৈচাশিক হামলা করে। শুধু তাইনয় এই চাঁদাবাজরা সিন্ডিকেট করে মৃত ব্যক্তি ও কিংবা রোগিকে যেখানে আনা-নেয়া করতে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে, সেখানে দশ থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এখানে বাহিরের কোন মাইক্রো বা এ্যাম্বুলেন্স এসে তাদের রোগি কিংবা লাশ নিয়ে যেতে পারে না এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটদের জন্য। এই ঘটনা নিয়ে আমি ইতোমধ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসক, র্যাব-৫, ট্রাফিক অফিস এবং রাজপাড়া থানায় উপরোক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদান করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাইম, মুন্না, রবি, মিলন, রাফি ও কাফিসহ আরো অনেকে।
অভিযোগের বিষয়ে সাদ্দাম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পুর্ন মিথ্যা। রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী তারা ভাড়া নেন বলে জানান। তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এসব করছে বলে জানান তিনি।