নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার ২নং কিশমতগণকৈড় ইউনিয়নের কয়ামাজমপুর গ্রামের আনিসুর রহমান আঞ্জুর ছেলে আসিকুর রহমান সোহাগ ও তার সহযোগিদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে দূর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। শুধু তাইনয় সোহাগ জুলাই-আগস্টের ছাত্র হত্যার আসামী। তিনি ঢাকা নিইমার্কেট এলাকার ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তারা নামে ঢাকা সিএমএম আদালতে হত্যা মামলা রয়েছে। যার মামলা নং-১৪০৮/২০২৪, ধারা- ১৪৩/৩২৬/৩০৭/১১৯/৩৪/১০৯দঃবিঃ। এই মামলায় তিনি এজাহারভূক্ত ১৩৯ নম্বর আসামী। এছাড়াও ঢাকা ধানমন্ডি থানাতেও তার নামে হত্যা মামলা রয়েছে। যার নম্বর-০৩(৪) ২০২৫। এই মামলায় তিনি এজাহারভূক্ত ১৬নম্বর আসামী বলে মামলা সূত্রে জানান গেছে।
এই হত্যা মামরা আসামী বর্তমানে নিজ এলাকায় এসে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছে বলে গতকাল বিকেলে কয়ামাজমপুর বিদ্যালয় মাঠে সংবাদ সম্মেলন এই তথ্য তুলে ধরেন কয়ামাজমপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, সোহাগের সহযোগিরা হলেন একই গ্রামের বেলাল পাইক এর ছেলে ফিজার, ইদ্রিস আলীর ছেলে জিসান, সেলিশ মোল্লা অরফে পিচ্চি সেলিম এর ছেলে রবিন, আফসার জোয়াদ্দারের ছেলে আতিকুর রহমান খোকন, সাবদুল দোকান্দারের ছেলে সাগর ও রফিক পাইক এর ছেলে নাজিম।
তিনি উল্লেখ করেন এই সন্ত্রাসীরা ২০২৪ সালের ৫আগস্ট পরিবর্তী সময়ে ৩নং ওয়ার্ড কয়ামাজমপুর এলাকাসহ আসে পাশের গ্রামে চাঁদাবাসী, ছিনতাই, অপহরণ, চুরি, ডাকাতী ও অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তুলেছে। তিনি বলেন, গত বছরের ১৭ অক্টোবর আলীপুর বাজারে সোহাগএক পুলিশকে মারপিট করার কারণে ঘটনাস্থ থেকে তাকে আটক করা হয়। সে সময়ে সোহাগ পনেরদিন জেল হাজতে থাকে। ঐ মামলা এখনো চলমান। মামলা নম্বর জিআর-১৫৫/২৫, ধারা-৩২৩/৩৫৩/৩৪।

এছাড়াও সোহাগ কয়ামাজপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকদের জমি অবৈধভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন করার জন্য ভেকু নিয়ে আসলে দূর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভেকু ভাঙ্গচুর করে সোহাগের নামে দূর্গাপুর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। যাহা চলমান, কয়ামাজমপুর গ্রামের মেহেজাব গালীব মাহিম নামে একজনকে প্রকাশ্যে প্রাণ নাশের হুমকী দিলে তিনি তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করেন। সেইসাথে আলীপুর বাজারের আলাউদ্দিন নামে এক পুকুর ব্যবসায়ীর গাড়ী ভাঙ্গচুর করে এবং তার নিকট হতে ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, একই গ্রামের মজনু নামের আরেক পুকুর ব্যবসায়ীর গাড়ী ভাঙ্গচুর করার ভয় দেখিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এছাড়াও চলতি বছরের ২০ মার্চ শান্ত নামে এক ব্যক্তিকে গোপালপুর বাজারে সোহাগ তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে দিবালোকে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেদম মারপিট করে। শুধু তাইনয় ৩০ মার্চ দুপুরের দিকে কয়ামাজমপুর হাইস্কুল মাঠের পশ্চিম পার্শে প্রায় ৩০টি ভ্যান আটক করে এবং ১০টি মোটর সাইকেল আটক করে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
তিনি আরো বলেন, তিনি একজন আহত ও গেজেটভূক্ত জুলাই যোদ্ধার পিতা। সন্ত্রাসী সোহাগ তাল ছেলেকেও হত্যার হুমকী দিয়েছিলো। এ নিয়ে তিনি দূর্গাপুর থানায় তার ছেলে জুলাইযোদ্ধা মেহজাব গালীব মাহিন একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যা চলমান রয়েছে। তিনি এই সন্ত্রাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান তিনিসহ উপস্থিত সকলেই।
শুধু এগুলো করেই সোহাগ গংরা ক্ষান্ত হয়নি তারা গত মার্চ মাসের ৩০ মার্চ পুকুরপাড়ে টং ঘর ধারালো অস্ত্র দিয়ে টিনের বেড়া কেটে ফেলে। সেইসাথে পুকুর ছেড়ে দেয়ার হুমকী দেয়। পুকুর না ছাড়লে পুকুরে বিশ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলবে বলে হুঁশিয়ারী দেন বলে জানান পুকুরের বর্তমান মালিক আনোয়ার শাহাদত হোসেন। এ নিয়ে তিনি থানা অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আর কোন কিছু হবেনা বলে আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধানমন্ত্রীও সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি হত্যা মামলার আসামী সোহাগ এবং তরা সকল সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান। পুকুরের পাহাদার রানা ও অন্য পাহাদার সবাই বলেন ঘর সোহাগ ভেঙ্গে গেছে বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনের আরো উপস্থিত ছিলেন ৩নং ওয়ার্ড কয়ামাজমপুর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সোহেল বাবু, ইউপি সদস্য এনতাজ আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক লতিফ, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিুদল ইসলাম, মহসিন, ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও মাহবুর রহমান। এছাড়াও অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত থেকে সোহাগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে দূর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সোহাগের নামে কোন প্রকার মামলা, অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরী তার থানায় নাই। সোহাগ কোন হত্যা মামলার আসামী কিনা তিনি জানেন না। আর সোহাগ এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব করে কিনা সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। কারণ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় এপর্যন্ত কেউ কোন প্রকার অভিযোগ ও মামলা করেননি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।