নিজস্ব প্রতিবেদক: অতীতের সকল গ্লানি মুছে নতুন আগামীর স্বপ্নে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পদ্মার পাড়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ঘুড়ি উৎসব। মঙ্গলবার বিকেলে পদ্মার পাড় সংলগ্ন ‘সীমান্ত অবকাশ’ এলাকায় রাজশাহী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসব সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে মণি-মুক্তার সঙ্গে তুলনা করে তা পুনরায় জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ ধরনের উৎসব অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” এসময় তিনি পদ্মাপাড়ে সমবেত দর্শক-শ্রোতা ও আয়োজকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উৎসবের এক পর্যায়ে শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ জনতার সাথে মিলে লাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়ান আমন্ত্রিত অতিথিরা। সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলনের পাশাপাশি এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. জাহাঙ্গীর ও রাজশাহী মহানগর এনসিপি-এর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ।
উৎসবমুখর এই পরিবেশে অতিথিরা তাদের বক্তব্যে ভবিষ্যতেও এমন শেকড়সন্ধানী ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই ঘুড়ি উৎসবকে কেন্দ্র করে পদ্মাপাড়ের আকাশ নানা রঙের ঘুড়িতে ছেয়ে যায়, যা উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করে।