নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বাধিকার, ভাষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজশাহী কলেজের ঐতিহাসিক অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ক্যাম্পাসে একটি দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একইসাথে, কলেজের সকল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার সন্ধায় রাজশাহী কলেজের ১৫০ উদযাপন নিবন্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ভূমি মন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাজশাহী কলেজের স্থাপত্যবিদ্যার বর্তমান বা প্রাক্তন ছাত্রদের নিপুণ নকশায় ক্যাম্পাসে এমন একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজীবন মনে রাখবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কলেজের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “১৫০ বছর অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। রাজশাহী কলেজ আমাদের মা, আর এখানকার সব ছেলেই তার সন্তান।” এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভূমি মন্ত্রী আরোও বলেন, দেশের প্রতিটি বড় আন্দোলনে এই কলেজের নেতৃত্ব দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। মহান ভাষা আন্দোলনে রাজশাহী কলেজের ভূমিকা ছিল অন্যতম। মাতৃভাষা রক্ষায় ঢাকার আগেই রাজশাহীর মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। ১৯৬২ সালের আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনের প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ এই কলেজেই নির্মিত হয়েছিল তৎকালীন ছাত্রনেতা আনোয়ার জাহিদ এবং কাজী জাফরের নেতৃত্বে।
১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক পাকিস্তানের আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে এখানে। রাজশাহী কলেজের গেটেই আইয়ুব খানের ওপর প্রথম জুতা নিক্ষেপের মতো অত্যন্ত সাহসী ঘটনা ঘটেছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। রাজশাহী কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা রাজশাহীর জন্য ব্যাপক সুনাম ও উৎসবের আমেজ বয়ে আনবে।
ভূমি মন্ত্রী বর্তমান সমাজের অন্যতম বড় ব্যাধি মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। দেশব্যাপী মাদকের যে ভয়াল থাবা বিস্তার করেছে, তা রুখে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ছোটদের অবশ্যই পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে রাখতে হবে। সমাজ থেকে এই ‘মাদক নামে এই নোংরা জিনিসটিকে’ চিরতরে ঘৃণা করতে হবে এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রাজশাহী কলেজের ১৫০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানের অবদান এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই পুনর্মিলনী ও উদযাপন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা নিবন্ধন কার্যক্রম সফল করতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব এস. এম. জহুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইব্রাহিম আলী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।