নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধের মতো জুলাই অভ্যুত্থানকেও কোনো একক গোষ্ঠী যেন নিজেদের করায়ত্ত করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের অকাতরে জীবন দেওয়ার ঐতিহাসিক ফসল।
আন্দোলনের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তুলে ধরে এমপি বলেন, রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো সত্ত্বেও অভিভাবক ও মা-বাবারা ঘরে বসে না থেকে সন্তানদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। গুম, খুন, অপশাসন, দুর্নীতি, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এবং ‘আয়নাঘর’-এর সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করতেই সাধারণ মানুষ এই অভূতপূর্ব ত্যাগ স্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মোহনপুরে ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এমপি মিলন আরোও বলেন মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য ‘শ্রমিক কার্ড’ চালু করা।
সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট ও কলকারখানার উন্নয়ন সাধন করা। বেকারত্ব দূরীকরণ, যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা। রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতি বছর এই ঐতিহাসিক দিনটি মহাসমারোহে পালনের ঘোষণা দিয়ে “করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে সবাইকে দেশ গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এমপি।
এর আগে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বাকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা মোনাজাত করা হয়। এদিকে আলোচনা সভার আগে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে থেকে পাঁচ আগস্ট এর বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি মোহনপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শেষ হয়। সেখানেই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন এর সভাপতিত্বে এবং মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপি সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন শাহ,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আক্তার সামসুজ্জোহা ও বাচ্চু রহমান এবং রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন কেশরহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক খুশবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ সরকার, মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর-ই-আলম সিদ্দিকী মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকলেসুর রহমান, বাকশিমইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ আলম শিমুল।
এছাড়াও উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সদস্যসচিব আব্দুল করিম মণ্ডল, উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক মৌটুসী সুলতানা রুমা ও সাধারণ সম্পাদক ববিতা খাতুন, মহিলা দল নেত্রী শাবনুর খাতুন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল, যুবনেতা মির্জা শওকত, কেশরহাট পৌর বিএনপি নেতা ওসমান আলী, পৌর যুবদল সভাপতি শাহিনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।