নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরের জিন্নাহ নগর এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ এর ছেলে লিয়াকত আলী নিজ জমি বুঝে পেতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন বিগত ২০০৫ সালের ৪ মে দাতা মৃত সাবিতুল্লাহ মণ্ডলের ছেলে সোবহান আলী মণ্ডল, মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে হাসেন আলী ও হোসেন আলী, আনসার আলীর স্ত্রী আঙ্গুরা বেগম, সকলের বাড়ি বড় বনগ্রাম (মাস্টারপাড়া), হাজরা পুকুর এলাকার মৃত জবেদ আলীর ছেলে আলাউদ্দীন, কফির উদ্দীনের স্ত্রী হাজেরা বেগম, শুকুর উদ্দীন এর সফুরা বেগম, বড় বনগ্রাম চকপাড়া এলাকার মৃত মনসুর আলী মণ্ডলের ছেলে ইদল হোসেন, আব্দুল গফুরের স্ত্রী মসুলিমা , বড় বনগ্রাম চকপাড়ার আবুল হোসেন এর স্ত্রী তসলিমা বেগম, ছোট পুকুড়িয়া এলাকার জাকারিয়া স্ত্রী আলতমা বেগম, তেরখাদিয়া উত্তরপাড়া এলাকার মাসুদ রানার স্ত্রী আরিফা বেগম এর নিকট হতে থানা- বোয়ালিয়া, হাল-রাজপাড়া, জেলা- রাজশাহী এর নিকট মৌজা- বড় বনগ্রাম, জে.এল নং- ৮২, প্রজার খতিয়ান, আর.এস-৯১২নং, দাগ হাল-৪২৪৪, রকম-ভিটা, .২৮০০একর এর কাত .০৪৯৫ একর, বাংলা মাপে মোট তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন বর্তমানে মোট ২৮ শতক জমি থেকে আব্দুল কুদ্দুস নামে জৈনিক ব্যক্তি জমির মালিক আতুফা বিবির নিকট হতে ১৮ শতক ক্রয় করেন। এই দাগে মুল মালিক মহিজান এর ১০শতক জমি অবশিষ্ট থাকে। তিনি ঐ ১০ শতক এর মধ্যে থেকে .০৪৯৫ একর, বাংলা মাপে মোট তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। এদিকে সরকার বাইপাস সড়ক করার জন্য আব্দুল কুদ্দুস এর ক্রয়ক্রত জমি ১৮ শতকের মধ্যে থেকে ১৬ শতক জমি অধিগ্রহন করে নেন। তাহলে কুদ্দুস এর জমি থাকলো মাত্র দুই শতক।
অধিগ্রহনকৃত জমির সাথে তার তিন কাঠা জমির কোন সম্পর্ক নাই। কিন্তু তিনি এখনো জমি বুঝে পাইনি। পতিত সরকারের দোসর ১৭ নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর ভূমিদস্যু শাহাদত হোসেন শাহু তার জমি দখল করে রেখেছেন। শুধু তাইনয় শাহুর চক্রান্তে সব হয়েছে। এমনকি শাহু কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় জমির মুল মালিকদের ওয়ারিশন সনদও দেননি বলে জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন শাহু একজন চিন্থিত ভূমিদস্যু। তার অত্যাচারে অত্র এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিলো। এখনো তার দোসরদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আছে। শুধু তাইনয় শাহু ১৭নাং ওয়ার্ডের সরকারী-বেসরকারী ও মালিকানাধীন শত শত বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে। পতিত সরকারের আমলে তার তাপটে কেউ কথা বলতে পারেনি। এজন্য সে সময়ে আমার জমি উদ্ধারের জন্য কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এই জমি নিয়ে অনেকবার বিচার সালিশ হলেও কোন সুরাহা হয়নি। জমি বুঝে না পাওয়ায় তিনি তার নিজ নামে নামজারী এখনো করতে পারিনি।
এদিকে আব্দুল কুদ্দুস অধিগ্রহনকৃত জমি বাদে মোট জমির মালিক ২শতকের। কিন্তু তিনি আবারও একই দাগের তার দুই শতক এবং মুল মালিক ও তার তিনকাঠা সহ অবশিষ্ট ১২শতক জমি জালিয়াদি করে রাজশাহী মহানগরীর সাধুর মোড় এলাকার আব্দুল রশিদের ছেলে এরশাদ আলী, আমজাদ, আমিনুল ইসলাম, জহুরুল হাসান এর খাইরুল এর নিকট বিক্রি করে দেন। উল্লেখ্য তার ১৬শতক জমি অধিগ্রহন করলেও সরকারের নিকট হতে ৭শতক জমির টাকা উত্তোলন করলেও সরকারী নথিতে উল্লেখ করেছেন ছয় শতক। এখানের তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। আর এই জালিয়াতির সঙ্গে ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন।
তিনি বলেন, তিনি একজন অসহায় মানুষ। অনেক কষ্ট করে ঐ জমিটি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী শাহুর অত্যাচারে জমিতে যেতে পারেননি। এরমধ্যে আবার কুদ্দুস জালিয়াতি করে আবারও জমিটি বিক্রি করে দিয়েছে। জমি হারিয়ে তিনি নি:শ্ব হয়ে পড়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে জমিটি উদ্ধার করে এবং সকল ভূমিদস্যুদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান তিনি।