বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে শোকের মাতম পদ্মার পানিতে ডুবেছে ঘর, পানিবন্দী মানুষের পাশে জেলা প্রশাসক শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার

শিশুর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিটি শিশুর সামগ্রিক ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে একক কোনো উদ্যোগ নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ (ইসিডি) খাতে অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।

বুধবার রাজশাহী নগরীর হোটেল এক্সে অনুষ্ঠিত “ক্যাটালাইজিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড” শীর্ষক আঞ্চলিক প্রচার ও মতবিনিময় কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এবং বেনের রাজশাহী আঞ্চলিক সচিবালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পরিচালক প্রফেসর ড. আকতার বানু।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সন্তানের বেড়ে ওঠা নিয়ে বর্তমান সময়ে প্রতিটি অভিভাবকই উদ্বিগ্ন থাকেন। আমাদের শিশুরা অধিকাংশ সময় চার দেয়ালের ভেতর বন্দি থাকায় তাদের স্বাভাবিক ও মানবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার যাতে শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় ও উপযুক্ত যত্ন দিতে পারে, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমাদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার বলেন, শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি পারিবারিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমেই শিশুর সুস্থ বিকাশ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের ভাইস-চেয়ার মাহমুদা আখতার শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জাতীয় নীতিমালার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর জেমস ওয়ার্ড খাকসি প্রকল্পের পটভূমি ও সামগ্রিক উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ক গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন একই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ফারাহ মুনীর।

আইইআরের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, প্রাক-শৈশব বিকাশের মূল লক্ষ্য হলো শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শিক্ষা, সুরক্ষা এবং সামাজিক ও মানসিক বিকাশকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা। জীবনের প্রথম কয়েক বছরে সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা গেলে শিশুর ভবিষ্যৎ শিখন সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা মজবুত হয়।

আয়োজকেরা উল্লেখ করেন, ২০২২ হতে ২০২৬ মেয়াদে পরিচালিত ‘ক্যাটালাইজিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের শিখনমুখী মূল্যায়ন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে নীতি-নির্ধারক ও অংশীজনদের পথ দেখাবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ডেপুটি ম্যানেজার তাসনিম সরকার প্যারেন্ট-টিচার অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ) সংক্রান্ত গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অভিভাবক সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। আলোচনায় আরও অংশ নেন সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহিদুল হক খানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদগণ। এ পর্বে প্রাক-প্রাথমিকে মাতৃভাষার ব্যবহার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাক্রম, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব, কমিউনিটি সেন্টারের ভূমিকা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

সমাপনী বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের অধ্যাপক ড. হ্যাপি কুমার দাস আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “শিশুর বিকাশ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, পরিবার, সমাজ, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রয়াসেই শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিন্টেন্ডেন্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় ইসিডি কমিটির সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin