নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে আব্দুল মাজেদের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগি মাসুম সরকার নামে একজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর অলোকার মোড়স্থ একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মাসুম সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, গত বুধবার (৬ মে) আব্দুল মাজেদ তার পৈতৃক সম্পত্তি ও মার্কেট ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ তুলে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ঐ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রচারিত হওয়ার পর জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুম সরকার বলেন, প্রকৃতপক্ষে সুলতানাবাদ এলাকার আর.এস ৪৫৩৭ নম্বর দাগের সম্পত্তিটি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে তিনি ক্রয় করেন। পরে ব্যাংক ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তার অনুকূলে দলিল রেজিস্ট্রি করে দখল বুঝিয়ে দেয়। বর্তমানে তিনি আইনগতভাবে মালিকানাস্বত্ব ধরে রেখে নিয়মিতভাবে খাজনা প্রদান করছেন।
তিনি আরও জানান, আব্দুল মাজেদ পূর্বে ১৯৭৫ সালের দলিলের মাধ্যমে ঐ সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করায় সম্পত্তিটি অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যাংকের অনুকূলে চলে যায়। আদালতের একাধিক রায় ও আদেশে ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা নিশ্চিত হয় এবং উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সম্পত্তিতে চলমান উন্নয়ন কাজ চলাকালে আব্দুল মাজেদের জামাই নাসিম চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানানোর পর চাঁদা দাবির ঘটনা ব্যর্থ হয় এবং এরপরই মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুম সরকার দাবি করেন, আব্দুল মাজেদ বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা করলেও অধিকাংশ মামলায় পরাজিত হয়েছেন এবং উচ্চ আদালত পর্যন্ত তার আবেদন খারিজ হয়েছে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত কিছু মামলার অস্তিত্বই নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের সঙ্গে তার বা সম্পত্তিটির কোনো সম্পর্ক নেই। একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বাস্তব ঘটনা আড়াল করা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের লিগ্যল এডভাইজার মাহাবুবু রহমান সোহেল, মুসলিম হারবাল কোম্পানির ম্যানেজার নাসিম হোসেন ও অভিভাবক আব্দুল মান্নান।