নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান হলেও সমান সুযোগ ও অর্থবহ অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপসা। শনিবার সকালে পবা উপজেলার আশ্রয় টেকনিক্যাল সেন্টারের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করেন। এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে দেশের ২৫টি সংসদীয় আসনের ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ জন প্রশিক্ষিত নাগরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছিলো।
প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা খাতুন লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রূপসা গ্রামীণ ও নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়নের অংশীদার, এটি একটি অধিকারভিত্তিক নাগরিক সমাজ সংগঠন। রূপসার নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সামগ্রিক পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং প্রক্রিয়াগতভাবে সুশৃঙ্খল। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সময়মতো খোলা হয়েছে, নির্বাচনী সামগ্রী সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যায়নি এবং ভোটাররা উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। তবে এই প্রশাসনিক সফলতার পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ, তথ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে গুরুত্ব পায়।
তিনি আরো উল্লেখ করেন অনেক সংখ্যালঘু ভোটার গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যান। রূপসার নির্বাহী পরিচালক হিরন্ময় মন্ডল “অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রথমবারের মতো গণভোট সম্পর্কে জানতে পারেন। এটি স্পষ্টভাবে ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ কম। ২৯৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন মাত্র ৪ জন, যাঁরা একই রাজনৈতিক দলের। সংখ্যালঘু নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল আরও কম—মোট ১০ জন। এ পরিস্থিতি রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি নির্দেশ করে।
এ ছাড়া পর্যবেক্ষণে প্রায় ১১.৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে হয়রানি, চাপ প্রয়োগ বা ভোটার চলাচলে সীমাবদ্ধতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে কিছু প্রান্তিক অঞ্চলে নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি লক্ষ্য করা গেছে।
রূপসা মনে করে, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে বহুভাষাভিত্তিক ভোটার শিক্ষা, সহজপ্রাপ্য অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা, সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং প্রান্তিক এলাকায় ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতা বাড়ানো জরুরি। সংগঠনটি জোর দিয়ে জানায়, তাদের এই পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করনে তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রূপসার প্রোগ্রাম ম্যানেজার রবিউল ইসলাম, সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার পুজারিনী বিশ্বাস ও শাফায়েত বিন এহসান এবং কমিউনিকেশন অফিসার রবিউল শিকদার উপস্থিত ছিলেন।