নিজস্ব প্রতিবেদক: এগার দলীয় জোট (জামায়াত-শিবির এবং এনসিবি) নির্বাচনের আগে থেকেই দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছে। এই জোট এখন অযথা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা গণভোট এবং জুলাই সনদ নিয়ে দেশবিরোধী জামায়াত-শিবির এবং এনসিবির মিথ্যাচারের প্রতিবাদে জাতীয়বাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাজশাহী জেলা শাখার আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও লিফলেট বিতণের পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সেবা করার সময় দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সে সুবাদে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ দেশে আবারও রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিলো। তৎকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান সব দলকে নিষিদ্ধ করেছিলো। সেই জামায়াতকে তিনি রাজনীতি করার সুযোগ করে দিলেও বরাবর মোনাফেকী করে আসছে। এই দল ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারতের পক্ষ নিয়েছিলো। আবার ১৯৭১ সালে পুর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে পুর্ব পাকিস্তানের জনগণের এবং স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে নির্মন নির্যাতনসহ এমন কোন খারাপ কাজ নাই এই জামায়াতে ইসলামী করেনি।
তিনি আরো বলেন, এই জামায়াত ১৯৮৬ সালেও বিএনপি ও দেশের জনগণের সাথে মুনাফেকী করেছে। এখন পর্যন্ত এই দলটি মোনাফেকী করে আসছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের দিন রাজশাহীতে কর্মসূচি দিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ১৬ই মে ফারাক্কা দিবস। এই দিবসের দিনে এগার দলীয় জোট রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ ডেকেছে। যেটা জনগণ ও সরকার কোনভাবেই কাম্য মনে করেনা।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার বিএনপি করেছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বিএনপি তাদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচি থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভোটের সংখ্যানুপাতে সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে (প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতি) থাকতে পারবেন না এমন যুগান্তকারী পরিবর্তনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে গণভোটের পক্ষে রায় দিচ্ছে, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ বা কর্মসূচির তারিখ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারেক রহমানের আহ্বানে যখন দেশের মানুষ মরণঘাতী ফারাক্কা বাঁধ ও পদ্মা ব্যারেজের ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, ঠিক তখনই ১৬ই মে তারিখে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এই তারিখটি অন্য কোনো দিনেও (১৫, ১৭ বা ১৮ তারিখ) হতে পারতো বলে তারা মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলে, তারেক রহমান জাতির মনস্তত্ত্ব বুঝে সঠিক সময়ে সঠিক আঘাত করেছেন। তাই আজ যারা “ঘোলা পানিতে মাছ শিকার” করতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। বিএনপি তাদের ৫২ শতাংশ বা তারও বেশি জনসমর্থন নিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সকল প্রকার ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা পবা থানার সামনে থেকে মিছির বের করে নওহাটা পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলে এগার জোটের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে থাকেন নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার বিকেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়ল যুগ্ম আহ্বায়ক আরফিন কনক এর সঞ্চালনায় কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শাহ মখদুম থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম সাহেব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার আমিন বিপুল, পবা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ ছোটসহ।