সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
যোগব্যায়াম ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য নিদর্শন:ভূমিমন্ত্রী রুয়েট পরিদর্শনে অ্যাক্রিডিটেশন ইভ্যালুয়েশন টিম বিশ্বকাপ উপলক্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের ‘জার্সি ডে’ উদযাপন রাজশাহীতে তায়কোয়ানডো দোজাং এর ২৬তম বেল্ট বিতরণ পুবালী ব্যাংক কেশরহাট শাখার লোন অফিসার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সিটি কলেজে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাজশাহীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আগামী দিনের নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন সাংসদ আবু সাইদ চাঁদ রাজশাহীতে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল রাজশাহী মহানগরের ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্প

বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবসে রাজশাহীর বিলনেপালপাড়াকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপালপাড়াকে পরাগায়ন, প্রাণবৈচিত্র্য ও কৃষিপ্রতিবেশ সুরক্ষায় মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় বিলনেপালপাড়া নারী সংগঠনের উদ্যোগে বিশ্ব মৌপতঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচী থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। মৌ পতঙ্গ বা পরাগবাহীপ্রাণীগুলো আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে, উদ্ভিদের প্রজনন নিশ্চিত করে, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, আমাদের খাদ্যব্যস্থাকে স্থিতিশীল রাখাসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে।

কিন্তু দিনেদিনে কৃষি রাসায়নিকীকরণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কমে যাওয়ার কারনে মৌপতঙ্গ প্রজাতি ভয়ংকরভাবে কমে যাচ্ছে। তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই লক্ষ্যেই এই এলাকাকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানের কৃষক-কৃষাণীসহ এলাকাবাসীরা সকলে মিলে এটি ষোঘণা করে এবং তারা জানায় এই এলাকায় কোন ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হবে না তারা আরো জানায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলকে মৌপতঙ্গের জন্য পরাগবান্ধব এলাকা ঘোষণা করা হোক। দেশব্যাপী কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করে কৃষিপ্রতিবেশ ও স্থানীয়কৃষি চর্চা বাড়াতে সরকারী উদ্যোগ নিতে হবে।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক) ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, বিলনেপালপড়া নারী সংগঠনের আয়োজনে কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিলনেপালপাড়া এলাকার কৃষক-কৃষাণী, প্রবীণ, তরুন, শিক্ষার্থী, যুব ও নানা শ্রেণীপেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বারসিক রাজশাহীর সহযোগী প্রোগ্রাম অফিসার তৌহিদুল ইসলাম। মৌপতঙ্গের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। তিনি বলেন- বিশ্বব্যাপী প্রকৃতিতে বিশ হাজারেরও বেশী প্রজাতির মৌপতঙ্গ নথিভুক্ত হয়েছে এছাড়াও বিজ্ঞাণীরা ধারণা করেন দেখা ও অদেখা মিলে প্রায় লক্ষাধিক মৌপতঙ্গ প্রজাতি পৃথিবীতে আছে। কৃষিতে ব্যবহৃত বহু কীটনাশক পরাগবাহী পতঙ্গের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষত ফুল ফোটার সময় এবং দিনের বেলা নির্বিচারে কীটনাশক স্প্রে করার ফলে মৌপতঙ্গ সরাসরি বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এই সংকটকে শুধুমাত্র কৃষি উৎপাদনের প্রশ্ন নয়, এটি একটি বৃহত্তর পরিবেশগত, বহুজীবিক এবং রাজনৈতিক বাস্তুতাত্ত্বিক সংকট হিসেবে দেখতে হবে।

কৃষাণী গোলাপজান বেগম (৬২) বলেন, আগে বোল্লা, মৌমাছি, ডারাস, ভিমরুল, ছোট বড় বিভিন্ন মাছি ও পোকামাকড় অনেক দেখেছি। বাড়িতে, দরজায়, ঘরে তারা বাসা বানাত এখন আর দেখতে পাই না। পটলে, ধানে পোকামারার জন্য এখন বিষ দিতে হচ্ছে আগে তো বিষ ছিল না তখনও বিষ ছাড়া, রাসায়নিক সার ছাড়া ফসল হতো।

কৃষক আব্দুস সালাম (৬০) বলেন, মৌপতঙ্গরা এখন আর এলাকায় থাকতে পারছে না। কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পতঙ্গরা এখন অনেক কমে গেছে। এই পতঙ্গরা না থাকায় পরাগায়ন হচ্ছে না ফলে ফসল কম হচ্ছে। মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, জৈব বালাইনাশক উৎপাদন ও প্রাকৃতিক কৃষিতে রুপান্তরের জন্য সরকারীভাবে উদ্যোগ নিতে হবে, কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কৃষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা ও সহযোগীতা দিতে হবে।

কৃষাণী সুলতানা খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগ্রোইকোলজি চর্চা করছি। এখানে এগ্রোইকোলজি শিখন কেন্দ্র ও কমিউনিটি বীজ ব্যাংক আছে। এখানে জৈব বালাইনাশক তৈরী ও ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও শেখানো হয়। তিনি আরো বলেন, বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানীর বিষ আমাদের মৌপতঙ্গ এবং উপকারী উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে ফলে নীরব পরাগসংকট হচ্ছে এবং আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin