শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
প্রশাসনের আশ্বাসে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত রাজশাহীতে টাইলসের নিচে লুকানো মাদক ও নগদ ১১ লাখ টাকাসহ ২ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনু সকল বাধা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে এমপি অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল

রিক্সা চালককে পিটিয়ে বরখাস্ত, অনুতাপে ‘ক্ষমা’ পেয়ে নতুন পদে সমাজসেবা কর্মকর্তা

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ২২৮ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে প্রকাশ্যে এক নিরীহ রিক্স াচালককে জুতা ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দেশব্যাপী সমালোচিত সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান রাসেল অবশেষে ‘শাস্তি’ থেকে অব্যাহতি পেলেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং গণমাধ্যমের ব্যাপক সমালোচনার মুখে নেওয়া সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, অনুতাপ প্রকাশ ও ভবিষ্যতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি না করার লিখিত অঙ্গীকারের বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তকালীন প্রায় ছয় মাস সময়কে তার কর্মকাল হিসেবে গণ্য করে তাকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে, যা প্রশাসনের অন্দরে ও সুশীল সমাজে জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গত রোববার সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়ার স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এই পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। আদেশে জাহিদ হাসান রাসেলকে বুধবারের (৩০ জুলাই) মধ্যে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর জাজেস কোয়ার্টার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটি এক পর্যায়ে কম টাকা দেওয়ায় রিক্সাচালক জাহিদ হাসানকে ‘লাট সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। এই সামান্য কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পবা উপজেলার তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান। প্রথমে তিনি নিজের পা থেকে জুতা খুলে রিক্সাচালককে মারধর করেন। এতেও ক্ষোভ না মিটলে তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর থেকে লাঠি বের করে এনে ওই বয়স্ক রিক্সাচালকের ওপর চড়াও হন। পথচারীদের ধারণ করা এই নির্মম ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও সহিংস আচরণে সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে।

ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জাহিদ হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং ঘটনা তদন্তের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) শহীদুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়।

তদন্ত শেষে গত ২২ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মহিউদ্দিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে জাহিদ হাসানের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ক্ষমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহিদ হাসান তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। তিনি রিক্সাচালকের সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, “ঘটনাটি তাঁর জীবনকে বদলে দিয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে শুধরে নিয়েছেন। এ শোধরানোর মধ্য দিয়ে তিনি বাঁকি জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন।” এই যুক্তিতে মন্ত্রণালয় মনে করেছে, তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা সমীচীন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রিক্সাচালককে পেটানোর ঘটনাটি জাহিদ হাসানের প্রথম বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নয়। রাজশাহীর পবায় কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। গত বছরের ৩১ মার্চ পবা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শিমুল বিল্লাহ সুলতানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় আচরণের লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ মে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা শারমিন আফরোজও তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এসব অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা সুরাহা হয়নি।

জাহিদ হাসানের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। সেখানে তিনি ‘ফাতেমা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ব্যক্তিগত সংগঠন পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে পবার নওহাটা পৌরসভা থেকে সরকারি ডাস্টবিন নিজের গ্রামের ওই সংগঠনের জন্য নিয়ে যান। বিস্ময়করভাবে, তিনি নিজেই ওই ডাস্টবিন বিতরণ কমিটির সভাপতি ছিলেন। তার স্ত্রী একজন বিচারক। রাজশাহীতে কর্মরত থাকাকালে তিনি ‘বিচারক’ লেখা স্টিকারযুক্ত ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করতেন এবং অফিসের কর্মচারী সোহাগ আলীকে দিয়ে গাড়ি পাহারা দেওয়াতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বুধবার জাহিদ হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, তবে দুপচাঁচিয়ায় তার যোগদানের বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই।

একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রকাশ্য সহিংস আচরণ, যার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এবং যার বিরুদ্ধে পূর্বের একাধিক অভিযোগ অমীমাংসিত, তাকে কীভাবে শুধু একটি ‘লিখিত অঙ্গীকারনামা’র ভিত্তিতে ক্ষমা করে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যতে অন্য কর্মকর্তাদেরও ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংস আচরণে উৎসাহিত করবে না? একজন সাধারণ নাগরিকের প্রতি এমন আচরণের বিচার কি কেবল ‘অনুতাপ’ প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে? প্রশাসনের এই ‘ক্ষমা’র দৃষ্টান্ত ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পরিপন্থী কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin