নিজস্ব প্রতিবেদক: “শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড” “জাতিগঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য”এই স্লোগানকে সামনে রেখে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে চেক বিতরণ ও বার্ষিক ভোজ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ ( পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণের আয়োজনে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে অনেক ষড়যন্ত্র ও অনেক গুজব ছড়ানো হয়। শুধু তাই নয় দুই একটি দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি । এরপরেও দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনে দেশের প্রতিটি জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, এর আগে বাংলাদেশে একটা জগদ্দল পাথরের ন্যায় একটি অবৈধ সরকার ছিল। এই অবৈধ সরকারকে ছাত্র জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে বিতাড়িত করেছেন। এরপরেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে এখানে উপস্থিত শিক্ষকগণ নানা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দায়িত্ব পালনের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মনে হয়েছে বিগত সরকারের আমলের নির্বাচনের ন্যায় এই নির্বাচন হবে কিনা। কিন্তু শিক্ষকরা তা প্রতিহত করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এটা বাস্তবায়ন করেছে বিদ্যালয়ের পরিবারবর্গ।
তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য জনগণ সহযোগিতা করেছে। এখন দেশে একটি সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে এটা নিয়ে বিএনপির অহমিকা করার কিছু নাই উল্লেখ করে মিলন আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যের কারনে ভারত-পাকিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আলাদা হয়েছে। সে সময়ে প্রাদেশিক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো। কিন্তু এখন তা আর কেউ চায়না। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি নিজেদের জাতী গঠনের কারিগর মনে করেন, তাহলে কথা দিয়ে কথা রাখতে হবে। শিক্ষকদের মধ্যে পার্থক্য রাখা যাবেনা । কেউ ভাল কেউ খারাপ শিক্ষক বলে কোন গণ্য করা যাবেনা।
সবাইকে তিনি শিক্ষক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কি কাজ করতে তা সবাই জানতে পারবে। পতিত সরকারের আমলে বিএনপির প্রতিষ্ঠা করা অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছিলো। কিন্তু বিএনপির এই সময়ে সেটা হতে দেয়া হবেনা। এজন্য সকল প্রতিষ্ঠানের দাবীগুলো লিখিত আকারে দেয়ার কথা বলেন। এটা নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান প্রধান অতিথি। শেষে সবার পাশে থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করবেন বলে জানান তিনি। বক্তব্য শেষে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে চেক তুলে দেন তিনি।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলা শাখার আয়োজনে খিরশিন মডেল হাই স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক মাসুদুর রহমার লিটন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক হযরত আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান, অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুম আলম। এছাড়াও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, আব্দুস সালাম মাস্টার ও আব্দুল হালিম সহ অন্যান্য শিক্ষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।