নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমআরএ-এমএফআই উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি ও সাধারণ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাদের ওপর নির্ভরশীল, সেই আগামী প্রজন্মকে প্রকৃত মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। সপুরাস্থ শাপলা কালচারাল স্কুল কনফারেন্স হলে শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের এমআরএ-এমএফআই উচ্চশিক্ষা বৃত্তি ও সাধারণ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান-২০২৬ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি।
প্রধান অতিথি আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও তাদের প্রতি দেশের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আগামী প্রজন্ম, যাদের দিকে বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে, তাদের মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “সরকার সচেষ্ট আছেন এবং তাঁরা এক্ষেত্রে সবারই সহযোগিতা চান। এই সমস্ত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে এবং পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করতে চান তিনি।”

এ সময় বিভিন্ন মহলের আলোচনা-সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদেরকে নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে।” তবে সব ধরনের সমালোচনা বা তকমা পাশ কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার এবং তাদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াতে বিশেষ নজর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩১দফায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে গান, খেলাধুলা, হাম, নাতসহ আটটি বিষয়ে পারদর্শী করে গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে পারদর্শীদের সরকারীভাবে ভাতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে কমলমতি শিশুদের নিয়ে ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। সেইসাথে কয়েকদিন পূর্বে দেশব্যাপি ১০টি ভেন্যুতে নতুন কুড়ি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে দেশব্যাপি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তিনি আরো বলেন, বতর্মান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন নতুন করে ভাবনা ও কর্মসূচী দিয়ে দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। দেশের যে কোন সমস্যা সমাধানে সরকারী ও বিরোধীদল এক সাথে কাজ করার পরিবেশ তৈরী করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামীতে আরো চমক আসবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি। সেইসাথে দেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাজশাহী জেলা অ্যাডভোকেট রইসুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থার মানব সম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কর্মসূচির আওতায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার এবং উপজেলার মোট ৪৪ জন (উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি ০৯ জন এবং সাধারণ শিক্ষা বৃত্তি ৩৫ জন) মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
সংস্থার উচ্চ শিক্ষা বৃত্তির আওতায় ০৯ জন শিক্ষার্থীকে অক্টোবর-ডিসেম্বর^ ২০২৫ মেয়াদে প্রতিমাসে জনপ্রতি তিন হাজার হিসেবে এবং সাধারণ শিক্ষা বৃত্তির আওতায় ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিমাসে জনপ্রতি পনেরশ টাকা হিসেবে সর্বমোট দুই লক্ষ আটত্রিশ হাজার পাঁচশত টাকা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বুয়েট, মেডিকেল, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত শিক্ষা বৃত্তির টাকা মানসম্মত শিক্ষা এবং শিক্ষা উপকরণসহ শিক্ষার উন্নয়নে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনভাবেই মাদক ও মোবাইলে আসক্ত না হয় সেই পরামর্শও প্রদান করেন। পাশাপাশি অতিথিবৃন্দ তাদের মানসম্মত ও ভবিষ্যত সমৃদ্ধশালী উন্নত শিক্ষা জীবন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আগত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উপকারভোগী সদস্য এবং অতিথিবৃন্দ শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার এই উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করেন এবং শাপলা এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক (নাচ ও গান) কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, উপকারভোগী সদস্য, বিভিন্ন পর্যায়ের স্টাফ ও অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।