নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজে ফাঁকি দেওয়া ও দুর্নীতির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে শিক্ষকদেরই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সঠিকভাবে শিক্ষিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে বলে শুক্রবার দুপুরে মোহনপুরের লালইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩(পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন জানান।
বর্তমান সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে এমপি বলেন, সরকার একটি চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের বহুমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ধর্মের চর্চাও জরুরি। ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া কোনো শিশু ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। এজন্য মুসলমানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিশুরাও যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া শিশুদের মেধা বিকাশে খেলাধুলা, গান-বাজনা ও কবিতা আবৃত্তির সুযোগ সৃষ্টির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এমপি বলেন, আমাদের দেশ ভৌগলিকভাবে সমৃদ্ধ এবং এর মাটিকে ‘সোনা’ বলা হলেও ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এই সম্পদকে লুট করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে সত্যিকারের ‘সোনার বাংলা’য় রূপান্তর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরোও বলেন বিদ্যালয়ের ভিবন, মাঠ, ব্রেঞ্চ, চক বা ডাস্টার সবকিছুই শিক্ষার্থীদের জন্য, তাই ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থকেই সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে এমপি মিলন বলেন, শিক্ষকরা স্কুলে এসে পাঠদানের বদলে নিজেদের হাতের কাজ বা অন্যান্য জিনিস তৈরি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ শোনা যায়। তিনি মনে করেন, এটি শিশুদের ঠিকমতো শিক্ষা প্রদানের পথে একটি বড় বাধা।
নিজ এলাকার ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, গোরস্থান, মন্দির) উন্নয়নে সবাইকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করার অনুরোধ করেন এমপি মিলন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সমাজ থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, সকলের সমঝোতায় এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন তিনি। সেইসাথে সকল শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠান ত্যাগের পূর্বে তিনি স্কুল মাঠে একটি গাছের চারা রোপন করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি সহ আগত অতিথিদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানান এবং ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আগত অতিথিদের হাতে ক্রেস তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়।অনুষ্ঠানের জুম্মার নামাজ শেষে মধ্যাহ্নভোজ পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আহ্বায়ক খলিলুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মোহনপুর উপজেলা আমীর উপাধাক্ষ জি.এম আব্দুল আওয়াল, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার ও আব্দুল কাদের মোল্লা, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান ও কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো।
এছাড়াও কেশরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান, মোহনপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, মোহনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও খুশবুর রহমান, রায়ঘাটি ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ইমাম হাসান শামীমসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও অত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।