শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
প্রশাসনের আশ্বাসে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত রাজশাহীতে টাইলসের নিচে লুকানো মাদক ও নগদ ১১ লাখ টাকাসহ ২ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনু সকল বাধা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে এমপি অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল

রাজশাহীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দূর্ণীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৩১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান অর রশিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাদের স্বজনপ্রীতি ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা। সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও পরে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কোনো ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছেন না নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান। যোগ্য ঠিকাদারদের উপেক্ষা করে ‘স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে’ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দিচ্ছেন। ফলে রাজশাহীর প্রকৃত ঠিকাদার কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অভিযোগকারীরা জানান, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কয়েক শত কোটি টাকার কাজ সিন্ডিকেটভুক্ত কিছু ঠিকাদারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। নিয়মিত বিল আটকে রেখে ঘুষ আদায়, অতিরিক্ত অর্থ দাবি, কাজের গুণগত মান উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়াসহ নানা অনিয়ম তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে একটি কোম্পানিকে ১৮ কোটি টাকার কাজ দিলেও সেটি যথাসময়ে শেষ হয়নি। আবার একাধিক কোম্পানিকে ১০ কোটি টাকার প্রকল্প দিলেও কাজের মান নিশ্চিত হয়নি। অথচ নিয়মিত বিল উত্তোলন করা হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ সহায়তায়।

ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জানান, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে প্রকৌশলী হান্নান তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেন। এমনকি প্রভাবশালী মহলের নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ বিষয়ে আন্দোলনকারীরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান অর রশিদকে অবিলম্বে রাজশাহী থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা আরো বলেন, রাজশাহী জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের একজন সুবিধাভোগী দোসর। গোপনে দরপত্রের রেট ফাঁস করে এখনো আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি অফিস সময়কে তোয়াক্কা করেন না। রাতে বাসবভনে বসান দপ্তর। কোনদিন অফিসে আসলে পোষা কুকুর নিয়ে আসেন। কুকুরের ভয়ে তটস্থ থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে কমিশনার বরাবর দেওয়া অভিযোগে। তিনি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ডেকে নিয়ে সন্ধ্যার পর বাসভবনে দাপ্তরিক কাজ করতে বাধ্য করেন। অধস্তনরা বাধ্য হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনে গভীর রাত অবধি কাজ করেন।

তারা আরো বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার অফিস শেষ না করেই গ্রামের বাড়ি পাবনায় রওনা করেন। তিনদিন বাড়িতে কাটিয়ে সোমবার বিকেলে ফেরেন রাজশাহীতে। সঙ্গে নিয়ে যান সরকারি গাড়ি। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত অফিস হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী ইচ্ছেমতো বিকেল তিনটার পর অফিসে আসেন। বিকেলে ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা অফিসে ভিড় করলেও তিনি অফিসে কোন ফাইল দেখেন না। এক দেড় ঘন্টা পর বাসায় চলে যান।

তারা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ দীর্ঘ সময় বিল আটকিয়ে ঠিকাদারদের হয়রানি করেন। এরপর তিনি ঠিকাদারদের চেক দেয়ার সময় বিলের এক শতাংশ উৎকোচ দিতে বাধ্য করান। একারণে তিনি ইতোমধ্যে মিস্টার ওয়ান পার্সেন্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়ছেন। এ অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি বছরে কোটি টাকার ওপর হাতিয়ে নেন। ঠিকাদারদের সময়মত বিল আটকানো ছাড়াও তিনি জামানতের টাকা ফেরত দিতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেন বলে উল্লেখ করেন তারা। এরপর টাকা ছাড়ের জন্য মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নেন। আর নির্বাহী প্রকৌশলীর নানা অপকর্মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের অবৈধ টাকা।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা নিয়ম মেনে কাজ করতে চান। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সঠিকভাবে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। তদন্ত করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তারা। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ঠিকাদার মীর তারেক, ফিরোজ, হিমেল, শাহীন, সজিব, রবিন, শাকিল ও ফরহাদসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত অন্যান্য ঠিকাদার।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin