নিজস্ব প্রতিবেদক: মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম। বুধবার সকালে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে শামীম দাবি করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। এর মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং তাঁর রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কথিত মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শামিমা ইয়াসমিন শিখা ও তাঁর স্বামী হাসানুজ্জামান বাবু পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলের অভিযোগও তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে শামীম জমির মালিকানা ও ক্রয়-বিক্রয়ের ধারাবাহিক তথ্য তুলে ধরে বলেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি মূল মালিকদের নিকট থেকে যথাযথ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ক্রয় করা হয়েছে। জমির সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করে এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে জমির পূর্ব মালিককে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। সম্প্রতি পুনরায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয় বলে জানান তিনি। শামিম বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জমির প্রকৃত মালিক বাদশা মিয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে বাদশা মিয়া বলেন, তার জমি দখল করেছেন এডভোকেট শামিমা ইয়াসমিন শিখা ও তাঁর স্বামী হাসানুজ্জামান বাবু। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে এডভোকেট শিখা ভয়ভীতি দেখান। শিখা বলেন, সাবেক আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও সাবেক জেলা প্রশাসক তার নিকট আত্মীয় বলে ভয় দেখান। শুধু তাইনয় তাকে মাদক দিয়ে আটক করিয়ে জেলের ভাত খাওয়াবে বলেও ভয় দেখান বলে জানান তিনি। এগুলো করেই এডভোকেট শামিমা ইয়াসমিন শিখা ও তাঁর স্বামী হাসানুজ্জামান বাবু ক্ষান্ত হননি। তাঁকে ২০২০ সালে চন্দ্রিমা থানায় ডেকে নিয়ে আটকের নাটক সাজিয়ে একলক্ষ টাকা দাবী করেন। পরে ২৫ হাজার টাকা থানায় নিয়ে তিনি মুক্ত হন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি এই দম্পত্তির শাস্তির দাবী জানান।