নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুলের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হুজুরীপাড়া ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে মৃত কাশিমুদ্দিন ছেলে রবিউল ইসলাম ও মোসলেম উদ্দিন ছেলে ইসাহাক আলী স্বক্ষারীত রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে গত ২৫-২৬ অর্থবছর ও ২৬-২৭ অর্থবছরের বাস্তবায়িত হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার মতো বিভিন্ন অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও পূর্বের কাজগুলোকে বর্তমান দেখিয়ে অর্থ আত্মস্বাত করেছেন তিনি।
এসব প্রকল্পের নাম হচ্ছে বেজুড়া গ্রামের সিন্দুর মোড় হতে দুলালের বাড়ির অভিমুখে রাস্তা এইচবিবি করণ, প্রকল্পের বরাদ্দ: ২,০০,০০০/-টাকা, রেজুলেশন বহির পৃষ্ঠা নং- ২২৬। বেজুড়া সিন্দুর মোড় হতে বাবলুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইটের সলিং করণ, প্রকল্পের বরাদ্দ: ৪,০৮,৩০০/- টাকা, রেজুলেশন বহির পৃষ্ঠা নং- ২৩৬, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফার্নিচার সরবরাহ, প্রকল্পের বরাদ্দ: ৩,০০,০০০/- টাকা, রেজুলেশন বহি নং- ২২৯ ও হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দুটি এসি ও ইন্ট্রেরিয়র ডেকোরেশন, প্রকল্পের বরাদ্দ: ২,৫০,০০০/- টাকা।
শুধু তাইনয় হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ, প্রকল্পের বরাদ্দ ১,৭৬,২০০/-টাকা. প্রকল্পের নাম: হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্যগণকে নভেম্বর ২০২৫ হতে মে ২০২৬ ইং পর্যন্ত মোট সাত মাসের বকেয়া বেতন প্রদান, প্রকল্পের বরাদ্দ: ৩,৬৯,৬০০/- টাকা, প্রকল্পের নাম: ধর্মহাটা ভূন্ডুর বাড়ি হতে শুকুরের জমি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ, প্রকল্পের বরাদ্দ: ৩,০০,০০০/- টাকা, প্রকল্পের নাম: ঘিপাড়া আকবরের বাড়ির সামনে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট, প্রকল্পের বরাদ্দ: ৪,৫০,০০০/- টাকা ও প্রকল্পের নাম: হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কাজের সুবিধার জন্য আইপিএস, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও কালার প্রিন্টার ক্রয়, প্রকল্পের বরাদ্দ: ২,৭২,৪০০/- টাকা।

উপরে উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর একই নামে একই জায়গায় একাধিক প্রকল্প দিয়ে কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন শহিদুল ইসলাম। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চেয়ারম্যানের উপর ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাকে অপসারণ করার দাবী জানানো হয়েছে অভিযোগ পত্রে।
এ বিষয়ে হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুলের নিকট জানতে একাধিকবার মোবাইল করলে তিনি কল রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) ইবনুল আবেদীন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।