শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
প্রশাসনের আশ্বাসে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত রাজশাহীতে টাইলসের নিচে লুকানো মাদক ও নগদ ১১ লাখ টাকাসহ ২ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনু সকল বাধা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে এমপি অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল

শীতে নাজেহাল রাজশাহীবাসী, পুরাতনপট্টীতে ক্রেতাদের ভীড়

  • প্রকাশ সময় শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৯২ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী অঞ্চলে চলছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, শীতে নাজেহাল রাজশাহীবাসী। শীত থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় সবব ধরনের মানুষ ছুটছে পুরাতন গরম কাপড় ক্রয় করতে। শুক্রবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সকল বয়সের এবং সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে হুমরী খেয়ে পুরাতন গরম কাপড় ক্রয় করতে দেখা যায়। শীতের কারনে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অফিস বলছে- এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত কিছুদিন ধরে রাজশাহীতে তাপমাত্রা কমছে। ফলে প্রতিনিয়ত শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রাকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর-সর্দি নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সূর্যের দেখা মিললেও সাড়ে ৯টার দিকে কুয়াশায় ঢেকে যায়। সকালে সাড়ে ১০ টার দিকে আবার সূর্যের দেখা মেলে। এসময় কুয়াশার সঙ্গে ছিল হিম বাতাস। শুক্রবারও দিনভর সুর্য্য লুকোচুরি খেলে। কখনো রোদে ঝিকিমিক করে, আবার কখনো মেঘে ঢেকে যায়।

তাপমাত্রা না কমলেও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস । শুক্রবার সকালে নগরীর সাহেববাজার, গণকপাড়া ও কোর্ট এলাকার অস্থায়ী শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ফুটপাতে ৫০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা অধিক দামের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। সোয়েটার, মাফলার, মোটা গেঞ্জি, জ্যাকেট, মোটা কাপড়ের শার্ট, কান টুপি, হাত ও পায়ের মোজা বিক্রি করতে দেখা যায়।

এছাড়া খুব সকালে শীত থেকে রেহাই পেতে নগরীর কিছু কিছু এলাকায় মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে শরীর উষ্ণ করতে দেখা গেছে। সাহেব বাজার ফুটপাত ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ অর্থাৎ মাঘ মাস পড়ার পর থেকে শীতের পোশাক বিক্রি বেড়েছে। এর পূর্বে যেমন বিক্রি হতো তার থেকে ২ থেকে ৩ গুন বেশি বিক্রি হচ্ছে। সেলিম রেজা, পলাশ, আব্দুল খালেক, আকরাম হোসেন ও শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য ক্রেতারা বলেন, শীত এখনও দেড় মাসের বেশী সময় রয়েছে। মাঘ মাসে বেশি শীত পরে। এই শীত যেমন-তেমন কাপড়ে নিবারণ করা সম্ভব নয়। জ্যাকেটের নিচে সোয়েটার পড়েও শীত লাগছে।

এদিকে দিনমজুরগণ এই শীতে বেশী বিড়ম্বনায় পড়েছেন। রিকশাচালক আলী হোসেন বলেন, শীতের কথা চিন্তা করে বাড়িতে বসে থাকলে পেটে ভাত যাবেনা। প্রয়োজনের তাগিদেই রাস্তায় বেড় হতে হয়েছে। একদিকে প্রচন্ড ঠান্ডা, অন্যদিক ঝিরিঝিরি বাতাস তাদের কাবু করে ফেলেছে।

গোদাগাড়ীর কাদমার দিন মজুর ইলিয়াস হেম্ব্রম বলেন, তিনি সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারের কাজ করেন। এছাড়াও অনেক সময় ড্রেনের কাজও করেন। প্রতিদিন এই ঠান্ডা উপেক্ষা করে তাকে এই শহরে সময়মত আসতে আসতে। খুব সকালে তাকে বাড়ি থেকে রওনা দিতে হয়। এই অবস্থায় তিনিসহ তার সাথে আগত প্রতিটি শ্রমিক নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থা আর কয়েকদিন চললে কাজ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা বলে জানান তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক প্রবীর মোহন বসাক বলেন, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছে। সেবা দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে নবজাতকদের। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেইসাথে বয়স্কদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin