শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বাংলার জাতীয় খেলা হা-ডুডুকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা হবে: এমপি মিলন যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সম্মাননা স্মারক প্রদান ভূমি মন্ত্রী মিনুর সুস্থতা কামনায় রাজশাহীতে দোয়া মাহফিল ফাঁকিবাজি ও দুর্নীতি রোধে শিক্ষকদের ভূমিকা জরুরি: এমপি মিলন প্রশাসনের আশ্বাসে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত রাজশাহীতে টাইলসের নিচে লুকানো মাদক ও নগদ ১১ লাখ টাকাসহ ২ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আটক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনু সকল বাধা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে এমপি অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন

আষাঢ়ের খরায় পুড়ছে রাজশাহী

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০২২
  • ৩৬৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেশ কিছুদিন হলো রাজশাহী অঞ্চলে তাপদাহ অব্যাহত রয়েছে। আষাঢ়ের খরায় পুড়ছে রাজশাহী। টানা তাপদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে রাজশাহীর জনজীবন। শুধু জনজীবন নয় কৃষিতেও পড়েছে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া। শহরের পিচঢালা রাস্তায় নামলেই মনে হয় শরীর আগুনে ঝলসে যাওয়ার মত লাগছে। মনে হচ্ছে আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। তীব্র গরমের দাপটে আনন্দও ভালভাবে করতে পারছেনা জনগণ। মানুষজন প্রাণভরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন না।

প্রতিবছর ঈদের দিন সকাল থেকেই রাজশাহীর পদ্মার পাড়সহ বিভিন্ন বিনোদন স্পট লোকে লোকারণ্য থাকলেও এবার সেই চিত্র নেই। ঈদের দিন ও পরের কেবল বিকেলে হলেই এসব এলাকায় লোকজন দেখা যাচ্ছে। বাইরে বের হলেই মনে হচ্ছে অগ্নিকুণ্ড। বৃষ্টি নেই, বাতাস থাকলেও সে বাতাসে যেন আগুন মাখা রয়েছে। তার ওপর ঠিকমতো থাকছে না বিদ্যুৎও! রোদ, গরম আর লোডশেডিংয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন রাজশাহীর মানুষ।

ঈদের দিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার (১১ জুলাই) তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বিকেল ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ দশমিমক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭.২ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন যতই পার হচ্ছে আবহাওয়ার অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই সন্ধ্যা ৬টার আগে এই তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রেজওয়ানুল হক জানান, ঈদের আগে থেকে রাজশাহীতে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এবার ঈদও কেটেছে বৃষ্টিহীন। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও বৃষ্টি নেই রাজশাহীতে। তাই তাপপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। মার্চ-এপ্রিলের তীব্র তাপপ্রবাহের পর থেকে রাজশাহীর ওপর দিয়ে কখনও মৃদু আবার কখনও মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে। ভারী বর্ষণ শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি আরো বলেন, বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় রাজশাহীতে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। ৩৭/৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলেও সেটি ৪০ ডিগ্রির ওপরে অনুভূত হচ্ছে বলেও জানান রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।
এদিকে রাজশাহী মাঠগুলো রোদে পুড়ছে। কিন্তু অন্যান্য বছরে এ সময়ে বৃষ্টির পানিতে মাঠ ভরে যায়। সেই পানি দিয়ে কৃষকরা ধার রোপন করেন। কিন্ত্র এবারে তা সম্পূর্ন ভিন্ন। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা পড়েছে মহাবিপদে। গোদাগাড়ী ও পবার মাঠে গেলে দেখা যায় পুরো মাঠ ফাঁকা। চারিদিকে শুধু ধুধু অবস্থা বিরাজ করছে। দুই একজন কৃষককে গভীর নলকুপের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে ধান রোপন করার জন্য চাষ করতে দেখা যায়।

গোদাগাড়ীর কাঁকনহ্টা এলাকার কৃষক সারওয়ার, হুমায়ন ও পবা এলাকার কৃষক আবু হাশেম, জাহাঙ্গীর আলম ও আলী হোসেনসহ অন্যান্য কৃষকরা বলেন, আষাঢ় মাস শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত জমিতে ধানের চারা রোপন করতে পারেননি। অথচ অন্যান্য বছর এ সময়ে মাঠে ধানের চারা রোপন করা প্রায় শেষ হয়ে যেত। আবার কোন কোন জমিতে ধানগাছ বড় হয়ে যেত। আবার বৃষ্টির পানির কারনে অনেক জমির ধান ডুবেও যেত। কিন্তু এবার তার বালাই নাই। এখন হাজার হাজার বিঘা জমি পতিত পরে আছে।

এদিকে পবা উপজেলা নওহাটা ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন দেওয়ান, গোদাগাড়ী মাটিকাটা ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারনে এই অবস্থা হয়েছে। তবে চলতি মাসের ১৫ তারিখের এবং আগামী মাস থেকে ব্যপক পরিমানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষকদের হতাশা হওয়ার কিছু নাই। কারন এবারে বোরো মৌসুম একটু দেরিতে শুরু হয়েছিলো। এ কারনে রোপা আমন মৌসুম একটু দেরি হচ্ছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আরো বেশী দেরী হচ্ছে। তবে চলতি মাসের ১৫ তারিখের পরে পুরোদমে ধান রোপন করা শুরু হবে। বৃষ্টি না হলে গভীর নলকুপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ধান রোপন করার পরামর্শ দেন। এতে কৃষকের কিছুটা ব্যয় বৃদ্ধি হতে পারে বলে জানান তারা।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin