নিজস্ব প্রতিবেদক: ধানের শীষ হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতিক। ধানের শীষ হচ্ছে সর্বময় জনগণের প্রতিক। বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে দেশের জনগণ শান্তিতে এবং নিরাপদে থাকে । এজন্য মোহনপুর বিএনপির জোয়ারে ভাসছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাচন বিষয়ক সহ সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি রোববার বিকেলে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন দেশনেত্রী। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। এজন্য তাকে চরম অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট পতিত সরকার তাকে তিলে তিলে হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়ে তাকে জেলে রাখা হয়েছিল । তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিলেও তেমন কোন ফল হয়নি। এর আগেই তিনি নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হন। যাহা শেষ সময় এসে আর কিছুই করার ছিল না। এভাবে তিনি চিকিৎসা রত অবস্থায় গত বছরের ত্রিশ ডিসেম্বর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনায় তিনি সবার নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন। সেই সাথে এই মহীয়সী নারীর তিলে তিলে গড়ে তোলা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

মিলন বলেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশবাসী বিজয় হবে। আর দেশবাসি বিজয়ী হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে পবা মোহনপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। নির্বাচিত হওয়ার পরে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পবা মোহনপুরে উন্নয়নমূলক শুরু করা হবে। প্রথমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। তার কারণ হচ্ছে দীর্ঘ ১৭ বছরের এই এলাকার রাস্তাঘাটের কোন উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে শুধু টাকাগুলো লোপাট করা হয়েছে। এজন্য দুই উপজেলাবাসি রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। তাদের দুর্ভোগ লাঘব করতেই প্রথমেই কাজগুলো শুরু করবেন বলে উল্লেখ করেন মিলন ।
তিনি আরো বলেন, শুধু রাস্তাঘাট নয়, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের মধ্যে কৃষিকার্ড প্রদান এবং বেকারত্ব লাঘবে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সেইসাথে খেলাধুলাকে চতুর্থ শ্রেণী হতে বাধ্যতামূলক করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, মোহনপুরবাসীর প্রধান কৃষি পান। এই পান ভালোভাবে উৎপাদনের জন্য রিসার্চ এর ব্যবস্থা করবেন। যাতে করে পচন বা অন্য কোন রোগে পান সহজে যেন নষ্ট না হয়। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের ব্যবহৃত পানিকে শোধন করে কৃষি কাজে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান স্থাপন করবেন। সেই সাথে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এর জন্য খাল খনন শুরু করবেন বলে উল্লেখ করেন মিলন।
মিলন আরো বলেন, একটি দল এখনো নির্বাচন বানচাল করতে মরিয়া হয়ে আছে। সেইসাথে জোরপূর্বক ও ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এই দেশ বিরোধী দলকে লাল কার্ড দেখানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১২ তারিখ ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। সেই সাথে ভুল ত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন মিলন।
এদিকে জনসভার প্রধান অতিথি , সভাপতি, বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে দেশবিরোধী দলের নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। স্বাধীনতা বিরোধী এই দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। সেইসাথে ১২ তারিখ সকাল থেকে শুরু করে শেষ অবধি ধানের শীষে ভোট প্রদান করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তারা।
এদিকে দুপুর পর থেকে মোহনপুর উপজেলা সদর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। অত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ মিছিল নিয়ে মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসেন। অত্র মাঠ যেন জনস্রোতে পরিণত হয় । এ সময় তারা চিৎকার করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। সেই সাথে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র তারা সমূলেও উৎপাটন করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। নিমিষেই মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য মোহনপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ। মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌর সাবেক মেয়র এবং জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সরকারি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য রুকুনুজ্জামান আলম, কেশর হাট বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো , সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি , জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা ইসলাম, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটি রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন সরকার টিটু সহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল , ছাত্রদল ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ।