নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডে বায়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রের মাথায় চলন্ত ফ্যান খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নেওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। গত বুধবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ফ্যানটি খুলে পড়ে। এতে প্রথম শ্রেণির ‘ক’ শাখার ছাত্র সিয়াম ইসলামের চোখের ওপর ও মুখের বিভিন্ন অংশ কেটে যায়। দুর্ঘটনার পর শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্য শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোটাছুটি শুরু হয়।
জানা গেছে, স্কুল চলাকালীন শিশুটির মা সেলিনা আক্তার সেলি বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তভেজা অবস্থায় দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিক্ষকরা শিশুটিকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বসিয়ে রাখলে, ক্ষুব্ধ হয়ে মা নিজেই ছেলেকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানিয়েছেন, অল্পের জন্য শিশুটি বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও তার চোখের নিচে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া নাক ও গালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শিশুটির বাবা মোকলেছুর রহমান বলেন, ঘটনার পর স্ত্রী ফোন করলে তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসা শেষে ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেও ঘটনার কারণ জানতে তিনি স্কুলে দু’বার গিয়েছিললেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে ফিরে এসেছেন বলে জানান তিনি। শিশুটির মা সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “সকাল ৯টায় তিনি শিশুকে ক্লাসে দিয়ে ছুটি পর্যন্ত বাইরে বসেছিলেন। এত বড় দুর্ঘটনার পর তারা শিশুটিকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে রুমের মধ্যে বসিয়ে রাখে। পরবর্তীতে স্কুল থেকে কেউ একবারও ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়নি বা বাসায় এসে একনজর দেখেও যায়নি।”
এদিকে, খোঁজ না নেওয়ার বিপরীতে বায়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক খালেদা বানু ভুক্তভোগী পরিবারকে ফোন করে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি জানানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের নিউজ করে কী লাভ হবে? কোনো লাভ নেই। এছাড়াও এক সাংবাদিক প্রধান শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তার অফিসে এসে কথা বলতে বলেন। তিনি জানান এর আগেও এই স্কুলে উপর থেকে ফ্যান পরে শিশুর হাত ভেঙে যায়। আরেকবার এক শিক্ষকের রুমে ফ্যান খুলে পরার ঘটনা ঘটে।
এদিকে পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জোবায়দা রওশন জাহান এর নিকট এ বিষয়ে কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শিশুটির পরিবারের খোঁজ খবর নিতে বলেছেন। তিনি নিজেও শিশুটির বাসাতে গিয়ে দেখা করে আসবেন বলে জানান।