বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ এবং গেঞ্জি উপহার বিএমডিএ এর সাথে রেহান আসিফ আসাদ মতবিনিময় সভা কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

নানা আয়োজনে রাজশাহীতে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২
  • ৮৩৯ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা আয়োজন ও কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে রাজশাহী ব্রিটিশ বিরোধী ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের সর্বজন বিদিত নেতা সিঁধু মুর্মু ও কানু মুর্মুসহ সকল শহীদদের স্মরণে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়। বুধবার দুপুর ২টা থেকে রাজশাহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির আয়োজনে অত্র একাডেমি প্রাঙ্গনে তীর ধনুক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু এর সভাপতিত্বে এবং সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিঁধু- কানু এর নানমুখী কর্মময় জীবন সম্পর্কে আলোকপাত করেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিষদ সদস্য যোগেন্দ্র নাথ সরেন, চিত্তরঞ্জন সরদার, সুসেন কুমার শ্যামদুয়ার ও কলেস্তিনা হাঁসদা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি আবু বকর সিদ্দিক, দেওপাড়া ইউপি সংরক্ষিত আসনের সাবেক নারী সদস্য কস্তান্তিনা হাঁসদা ও পাহাড়িয়া গবেষনা সংস্থার সভাপতি অভিলাষ বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অত্র একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক কবীর আহম্মেদ বিন্দু, নাটক প্রশিক্ষক লুবনা রশীদ সিদ্দিকা ও গবেষণা সহকারী মোহাম্মদ শাহজাহানসহ অন্যান্য আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও জনগণ।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বেনজামিন টুডু বলেন, ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দের সাঁন্তাল বিদ্রোহ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এবং বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে হাজারও সাঁন্তালদের রক্তে লেখা এক অনন্য ইতিহাস। কোন একটি সাধারণ কারণে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়নি। বরং সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু কারণে এই গণ-সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছিল।

সাঁন্তাল বিদ্রোহ ছিল মূলত: তৎকালীন সময়ের সুদখোর মহাজন, ফড়িয়া ব্যবসায়ী এবং অতিলোভী জমিদারদের অমানবিক অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক স্বোচ্চার প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের আগুন ভারতের ভাগলপুর, বীরভূম এবং আশেপাশের সাঁন্তাল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল।

তৎকালীন ভারতবর্ষের বৃটিশ শাসক লর্ড ডালহৌসির মতে, “এই বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারন ছিল “বিত্তবান উচ্চবর্ণের হিন্দুরা নিরীহ, সৎ, সহায়-সম্বলহীন, নিরক্ষর সাঁন্তালদের যুগ যুগ ধরেই নানাভাবে শোষন ও অত্যাচার করে আসছিল। এরা সাঁন্তলদের ক্রীতদাসে পরিনত করার মানসে নানা রকম ফাঁদ পেতেছিল।” এ অবস্থা থেকে সাঁন্তালসহ আদিবাসী সখল জাতীতে এদের কবল থেকে রক্ষা করতে এবং ব্রিটিশদের নির্যাতন ও শোষন থেকে মুক্তি পেতে এই আন্দোলন তারা করে ছিলেন তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্য শেষে আদিবাসী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রের নাচ পরিবেশন করা হয়। শেষে সকল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin