নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে পুবালী ব্যাংক রাজশাহীর কেশরহাটা শাখার লোন অফিসার মনিরুজ্জানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, অর্থ কেলেঙ্কারী ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একজন ব্যক্তিকে লোন করিয়ে দেয়ার নামে এক লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। নগদ ঘুষের টাকা না পাওয়ায় তিনি ঐ ব্যক্তির নিকট হতে ব্ল্যাঙ্ক চেক নেন। এরপর থেকে শুরু হয় তার প্রতারাণা। এমনটাই বলছিলেন ভূক্তভোগি সাজ্জাদ আলী বাবু। তিনি বলেন, বিগত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর পূর্বে সাহেব বাজার গণকপাড়া এলাকায় তিনি গোল্ডেন সেফ চাইনিজ রেস্টুরেন্ট নামে একটি রেস্টুরেন্ট করে ব্যবসা করতেন।
ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং ভালভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি নগরীর আলুপট্টির মোড় পুবালী ব্যাংক শাখায় যান এবং লোন অফিসার মনিরুজ্জামান এর সাথে পরিচিতি হন। এরপর লোনের কথা বললে মনিরুজ্জামান দ্রুত লোন করে দেবেন জানান। সেইসাথে লোন করে দেয়ার জন্য ঘুষ বাবদ এক লক্ষ টাকা দাবী করেন। নগদ টাকা দিতে পারবেননা বলে বাবু জানান। সে সময়ে ঐ লোন অফিসার বলেন, তিনি কোথাও থেকে এক লক্ষ টাকা ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করবেন। বিনিময়ে তাকে এক লক্ষ টাকার সমপরিমান একটি ফাঁকা চেক দিতে হবে। বাবু সরল বিশ্বাসে এক লক্ষ টাকার ফাঁকা চেক দেন মনিরুজ্জামান এর হাতে।
বাবু আরো বলেন, দির্ঘ্য কয়েক মাস ঘোরানোর পরেও তাকে লোন করে দিতে পারেননি মনিরুজ্জামান। লোন না করতে পারলেও টাকার দাবী তিনি ঠিকই রেখেছেন। এই টাকার বিপরীতে মনিরুজ্জামান প্রতিমাসে আট হাজার টাকা করে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা সুদ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এরপরেও লোন অফিসার এখন আবার চার লক্ষ আশি হাজার টাকা দাবী করছেন বলে বাবু জানান। শুধু তাইনয় মনিরুজ্জামান তার দেয়া ফাঁকা চেকে বাইশ লক্ষ টাকা লিখে রাজশাহী কোর্টে মামলা করে সবার অগোচরে একতরফা রায় নেন। আদালত তাকে জেল দিয়েছেন। এখন তিনি ফেরারী হয়ে ঘুরছেন বলে জানান বাবু।
বাবু বলেন, তিনি লোন করতে না পেরে ব্যবসায়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হন। এরপর আবার তাকে ঐ এক লক্ষ টাকার জন্য সুদও দিতে হয়েছে। এখন আবার সুদ দাবী করছে। তিনি বর্তমানে অনেক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সেইসাথে পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হয়ে আছেন বলে জানান তিনি। তিনি ঐ ঘুষখোর ও প্রতারক লোন অফিসার মনিরুজ্জামান এর কঠোর শাস্তির দাবী জানান।
এ বিষয়ে লোন অফিসার মনিরুজ্জামান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাজ্জাদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো, আদালত রায় দিয়েছেন। এটা নিয়ে তিনি আর কোন কথা বলতে চাননা। তবে তিনি লোন করতে না পারা এবং ফাঁকা চেক নেয়ার কথা স্বীকরা করেন।