বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ এবং গেঞ্জি উপহার বিএমডিএ এর সাথে রেহান আসিফ আসাদ মতবিনিময় সভা কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি শিশু শিক্ষার সুযোগ পেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে: জেলা প্রশাসক

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিশুরা এই সমাজে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক, তারা শিক্ষার সুযোগ পাক। প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষম করে তুলতে হবে। শিশুদের নিরাপদ শৈশব ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবে।’ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের নানকিং দরবার হলে আয়োজিত রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এডিপি) অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি হলো সেই দেশের শিশু ও নারীরা কতটা নিরাপদ এবং শিশুরা কতটা সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে। প্রতিটি শিশুকে শিক্ষা, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের এ কর্মসূচি আশাব্যঞ্জক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে শিক্ষা বিস্তার ও মাদক প্রতিরোধের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও গতিশীল হবে। শিশুদের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়া ও মাদকের ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রমের জন্য ২০২৫ সালে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়ন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে অংশীজনদের সঙ্গে সভা, শিশু উপদেষ্টা কমিটি গঠন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং শিশু ও যুব ফোরাম গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩২৪ জন মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০টি পরিবার। ইতিমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৯১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার শনাক্ত করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এডিপির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। স্থানীয় মানুষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, পানি-স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ), শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা ও অংশগ্রহণ এবং স্পনসরশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শিশুদের টিকাদান ও জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা, অপুষ্টি কমানো এবং পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতে ‘আনলক লিটারেসি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও লার্নিং রুটস সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশু সুরক্ষার বিষয়েও কাজ করা হবে। এ ছাড়া দরিদ্র পরিবারের সক্ষমতা বাড়াতে আল্ট্রাপুওর গ্র্যাজুয়েশন মডেল, কমিউনিটি গ্রিনিং ও জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস চন্দন জেড. গমেজ। তিনি বলেন, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম ছোট পরিসরে শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে এটি বড় পরিসরে নেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের পরামর্শ ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশনের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসূচির বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ জন্য তথ্য জানানো, মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের মতামত অনুযায়ী কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন এসআইএম রাজিউল করিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ড. জ্যারেড বেরেন্ডস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর বিভাগীয় পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি রেভারেন্ড বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ওয়ার্ল্ড ভিশনের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর-ফিল্ড অপারেশনস রাজু উইলিয়াম রোজারিওসহ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও ও শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানায়, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। মূল কর্মসূচি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে। এরপর দুই বছরের ট্রানজিশন পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০৩৭ সালে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin