নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, গ্রেটার রোড কাজীহাটা শাখা ম্যানেজার মাইনুল হক জুয়েলকে (৪৫) মারপিট করে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় জুয়েল বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জুয়েল রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন মৃত শফিউল হক এর ছেলে বলে জানা গেছে।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ায় তালাকাপ্রাপ্তা স্ত্রীর ইশারায় তাকে মারপিট করা হয়েছে। অভিযোগে রাজশাহী মহানগরীর মুশরইল জলিলের মোড়ের শহিদ এর ছেলে রবিন (২৫), শাহ মখদুম থানার দুরুলের মোড়ের মমিন (২৪), বোষপাড়া এলাকার আলফাজ উদ্দিন আবেদ তার স্ত্রী মিনু মমতাজ আরা ডেইজি (৪৮), মেয়ে আফিয়া জাহিন রাজশাহীগণসহ অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন তিনি গত ৬ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখ তার প্রথম স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরাকে (৩৫) তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখ তিনি ২য় বিয়ে করে সংসার করছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ৮টার দিকে ১নং বিবাদী মোবাইলে কল দিয়ে তাকে চন্দ্রিমা থানাধীন ছোটবনগ্রাম প্রাইমারী স্কুল মোড়ে ডেকে নেয়। ১নং বিবাদীর কল পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং ১-২নং আসামী রবিন ও মমিনকে বলেন কেন ডেকেছেন কি সম্পর্কে কথা বলতে চান এবং আপনাদেরকে কে পাঠিয়েছে। এসময় তারা বলেন আপনার স্ত্রী ফাহমিদা পাঠিয়েছে।
এ সময়ে তারা বলেন যে, আপনার স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরা কে ভরন পোষন দেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথশ স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরা কে ২০২৫ সালে তালাক দিয়েছেন। তখন তারা ছেলেদের নামে বাড়ি লিখে দেয়ার কথা বলেন। তখন তিনি তাদের বলেন তাঁর অবর্তমানে সকল সম্পত্তি তো তাঁর ছেলে মেয়েদেরই হবে। এরপর মমিন বলেন, আপনাকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ষষ্টিতলা মোড়ে যেতে বলেছেন। সেইসাথে তাদের সাথে যেতে বললে এখন অনেক রাত হয়েছে, আগামীকাল সকালে যাবেন বলে জানান তিনি।
আমি এই কথা বলায় আসামী আলফাজ উদ্দিন আবেদ ও আফিয়া জাহিন এর ইন্ধোনে রবিন ও মমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪ থেকে ৫ জন উত্তেজিত হয়ে তার উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময়ে তারা এলোপাথারি কিল, ঘুষি মারতে থাকে। মমিন লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। এছাড়াও রবিন লোহার রড দিয়ে এলোপাথারিভাবে হাটুর নিচে আঘাত করলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালোশিরা পরে যায়। তাদের সাথে আরো ১০থেকে ১৫ জন এলোপাথারিভাবে তাকে মারপিট করে। এ সময়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে সকল আসামী ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে তিনি এখন বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, থানায় এখনো মামলা হয়নি। মামলা করার জন্য ম্যানেজারকে ডাকা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি আসেননি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান এই এই পুলিশ কর্মকর্তা।