নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি কলেজের তিন বিঘা জমি সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত মৌগাছি কলেজে বর্তমানে ৮৬ জন শিক্ষার্থী ও প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়মিত পাঠদান ও সন্তোষজনক ফলাফল থাকা সত্ত্বেও কলেজটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন সীমিত হলেও শিক্ষার পরিবেশ ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শনকালে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মির্জা দৌলাতুন নাহার অভিযোগ করেন, কলেজের তিন বিঘা জমি সাবেক অধ্যক্ষ শামসুজ্জোহা বেলাল স্থানীয় আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক দিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এতে কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
অভিযোগ শোনার পরপরই এমপি মিলন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তাকে কলেজে উপস্থিত হতে বলেন। পরে বন্ধকী টাকার পুরো অর্থ পরিশোধ করে জমিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনতাজ আলীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগে জমি উদ্ধার হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, এর ফলে কলেজটির উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় গতি পাবে।
এমপি মিলন বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে মৌগাছি কলেজকে এমপিওভুক্ত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং মৌগাছি কলেজও দ্রুত এই উন্নয়নধারায় যুক্ত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-অর-রশীদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর ই আলম সিদ্দিকী মুকুল, সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলন (অব.) সার্জেন্ট, মৌগাছি ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মৌগাছি কলেজের প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিক (মনোবিজ্ঞান), রইচ উদ্দিন (বাংলা), জান্নাতুন ফেরদাউস (ইংরেজি), প্রদর্শক শরিফুল ইসলাম ও ফয়সাল নাসিম, কম্পিউটার অপারেটর খালেদা এবং অফিস সহকারী আশরাফ আলী প্রমুখ। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু মৌগাছি কলেজ নয়, পুরো এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।