বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ এবং গেঞ্জি উপহার বিএমডিএ এর সাথে রেহান আসিফ আসাদ মতবিনিময় সভা কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীতে কথায় কথায় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙ্গচুর, এর শেষ কোথায়

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে কথায় কথায় চলছে সরকারী-বেসরকারীসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙ্গচুর। চলছে মব সৃষ্টি। এ ধরনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে। এখন পর্যন্ত তা চলমান। এ সকল ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বোরবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে ষ্টেশনে ঘটে নারকীয় তান্ডব। আর এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন ও নির্দেশ দেন রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্বার। এমনটাই বলছেন সাধারণ জনগণ।

এছাড়ও এই আম্বার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন এক ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার না করলে প্রত্যেক ট্রেন থেকে দুইজন করে ষ্টাফ তুলবো আমি। আমার ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিবেন। এমন সাহস আম্বার কোথা থেকে পায়। এটা এখন সবার মুখে মুখে।

রাজশাহীর সকল শ্রেণি পেশার মানুষ বলছেন। রেলওয়ে স্টেশন সরকারী সম্পদ। যা জনগণের টাকায় তৈরী। এটা কোন ব্যাক্তি ভাঙ্গচুর করতে পারেনা। দেশে আইন আছে। বিচার আছে তাহলে এই ছাত্ররুপি সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ন কিভাবে এ সকল সম্পদ ভাঙ্গচুর করছে। আর এ সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনী কি করে। বর্তমানে এই বিষয়টি শহরের চায়ের স্টল থেকে শুরু করে হাট, বাজার ও আড্ডা খানায় টক অব দ্যা পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহল বলছে এখনই এটা রোধ না করা হলে ভবিষ্যৎ খুব খারাপ আছে।

সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল বলছে রেলওয়ের কোন লোক যদি কোন অন্যায় করে তার জন্য বিচার আছে আইন ও আদালত আছে, তাই বলে মব সৃষ্টি করে রাজশাহীর ঐতিহ্য রাজশাহীর প্রাণ রাজশাহী মানুষের গর্ব রেলওয়ে স্টেশন কে ভেঙেচুরে একাকার করে দেবে এটাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে রাজশাহী সকল সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর নিকট এই অন্যায়ের বিচার দাবী করেন তারা। সেইসাথে অনতি বিলম্বে এর মদদ দাতা সালাউদ্দিন আম্মারকে আটকের দাবী জানান। ভবিষ্যতে রাজশাহীর কোন কিছুতে কেউ হাত দিলে সে হাত ভেঙ্গে দেয়ার হুঁশিয়ারীসহ এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করেন তারা।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ যেন থামছেই না। কয়েক মাসের ব্যবধানে একের পর এক অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি অবস্থান, রেললাইন অবরোধ ও সর্বশেষ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার মধ্যে বিরোধ কেন বারবার সংঘাতে গড়াচ্ছে?

সর্বশেষ রোববার রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবির এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আহত শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ?
চলতি বছরের জুলাইয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রেললাইন অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত টিটিই-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে রেলওয়ে জানিয়েছিল। অবরোধের কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায় এবং শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টিটিই-দের আচরণ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সমস্যা তৈরি হয়েছে। চেন টানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে হয়রানি, রেল নিরাপত্তা সদস্যদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগসহ বেশ কিছু ঘটনার কথা তারা সামনে আনছেন। তবে এসব পুরোনো অভিযোগের সবগুলো বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

এদিকে সর্বশেষ ঘটনার পর শুধু রেলওয়ে কর্মীদের ভূমিকা নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্টেশনের সিসিটিভি, হেল্প ডেস্ক, জানালার কাঁচসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশনে অবস্থানকালে সেখানে নারী ও শিশুসহ যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলেও পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন। অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনি প্রতিবাদের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর, রেললাইন অবরোধ এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলার ঘটনাও কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ঘামলার এই ঘটনায় দ্বায়কার এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে। সর্বশেষ ঘটনাকে শুধু ‘শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর’ অথবা শুধু ‘রেলওয়ের কর্মীদের হামলা’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না।একজন শিক্ষার্থীর ওপর যদি রেলওয়ে কর্মী বা নিরাপত্তা সদস্যের বেআইনি হামলার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে শিক্ষার্থীদের কোনো অংশ যদি স্টেশন, রেললাইন বা রাষ্ট্রীয় সম্পদে ভাঙচুর করে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও দায় নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, রেলওয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কাউকে দায়ী না করার কথাও তিনি জানিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনায় রেলওয়ে ও বিভাগীয় প্রশাসনের দুটি তদন্ত প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে যদি আগের ঘটনাগুলোরও নথি, অভিযোগ ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে বোঝা সম্ভব হতে পারে সমস্যাটি ব্যক্তির আচরণে, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায়, নাকি দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ঘাটতিতে।

প্রশ্ন উঠেছে পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই কি এমন ঘটনা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার’ মতো দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলেও বিগত সরকারের সময় দলীয় বিবেচনায় নিযোগকৃতদের নিয়ে তদন্ত সহ নজরদারি প্রয়োজন।

অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, রাজশাহীতে রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিরোধ এখন আর দুই পক্ষের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে সাধারণ যাত্রীর নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং পুরো অঞ্চলের রেল যোগাযোগ। ফলে দায় যারই হোক, বারবার সংঘাতের বদলে স্থায়ী সমাধান এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin