নিজস্ব প্রতিবেদক: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো রাজশাহী শাখায় জিল্লুর রহমান নামে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে জাল সনদে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই জাল সনদে জীবিত মাকে মৃত বানিয়ে অন্যের সার্টিফিকেটে বাবার নাম সংশোধন করে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক নারী রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে ‘অভিযোগ নিস্পত্তি কর্মকর্তা’ বরাবরে একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় জিল্লুর রহমানের পিতার নাম মজিবুল হোসেন, মাতার নাম জৈনুর বেগম। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বেগুনবাড়িতে (কাঁঠাল)। আর যার সনদ জাল করেছেন তার নামও জিল্লুর রহমান, পিতার নাম- মজিবুর রহমান, মাতা- মনিরা। ঠিকানা একই। তাদের নিজের নাম একই রকম ও বাবার নাম প্রায় সেম সেম হওয়াতে এই সনদ জাল করতে তার সুবিধা হয়েছে। তিনি ২০০৩ সালে শিবগঞ্জ কর্ণখালি ইহ ইয়াইল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা পাশের সনদ দিয়ে তিনি চাকরি করছেন। যার রোল নং -শবগঞ্জ- ১৩৮০১০, রেজিস্ট্রেশন নং- ৪২৪১০৪১। এই সনদটি আসলে জিল্লুর রহমানের নয়। এই সনদ অত্র মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এর জোগ সাজশে তিনি করে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন ওই সময় তার হয়ে একজন পরীক্ষায় পক্সি দিতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে এবং ওই ব্যক্তি জেলও খাটে। মূল সনদে প্রকৃত ব্যক্তির মায়ের নাম মনিরা থাকায় তিনি তার নিজ মায়ের নাম জৈনূর বেগম সনদে আর লিখতে পারেননি। এ কারণে সনদে মায়ের নাম মনিরা থেকে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শুধু তাই নয় তার মূল সনদ ২০০৩ সালে হওয়ায় এবং আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ২০০৮ সালে হওয়ার কারণে তার মূল সনদে জৈনূর বেগমের নাম বাদ দিয়ে সনদ ও আইডি কার্ডে মনিরা নাম লিপিবদ্ধ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন জিল্লুর রহমান তার মা বেঁচে থাকা সত্ত্বেও সনদে উল্লেখিত মা মনিরাকে মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ নেন। এখানেই শেষ নয় সামান্য চাকরী করে তিনি রাজশাহী শহরের দুই দুইটি বাসার মালিক বনে গেছেন। সেইসাথে সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাচ্ছেন।
তার সনদ যে জাল তার প্রমান স্বরুপ তিনি আরো উল্লেখ করেন জিল্লুর রহমানের নামে জমির যে দলিল রয়েছে সেই দলিলেও মায়ের নাম জৈনুর বেগম লেখা আছে। তিনি এই প্রতারক জিল্লুর রহমানের শাস্তির দাবি জানান। শুধু তাই নয় জিল্লুর রহমান তার প্রকৃত মাকে ও বাবাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। সেই সাথে বাড়িতে তালা মেরে রেখেছে। মারপিটের বিচার ও গৃহে প্রবেশ করার জন্য তার মা গোমস্তাপুর থানায় একটি মামলাও করে রেখেছেন। বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে জিল্লুর রহমানের শাস্তির দাবী জানানো হয়।
এবিষয়ে রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো রাজশাহী শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ আঃ হালিম নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নতুন এসেছেন এখানে। তবে বিষয়টি তিনি হেড অফিস জানাবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
অভিযোগ সম্পর্কে জিল্লুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। আর বিষয়টি তার কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবেন। এজন্য তিনি এর থেকে বেশী কিছু আর বলতে পারবেন না বলে প্রতিবেদককে জানান।