বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ এবং গেঞ্জি উপহার বিএমডিএ এর সাথে রেহান আসিফ আসাদ মতবিনিময় সভা কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীর পবায় কেঁচো সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী নারী উদ্যোক্ত্যা বিলকিস

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৩০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবার বড়গাছী কারিগরপাড়ার বিলকিস আরা বেগম ভার্মি কম্পোস্ট সার (কেঁচো সার) উৎপাদন করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। বিলকিস বলেন, ২০১৬ সালে তিনি একটি এনজিও এর মাধ্যমে এই সার উৎপাদন শুরু করেন। সে সময়ে তিনি একটি চাড়ি, ৫০০ কেঁচো আর ৫০০টাকা নিয়ে এই সার উৎপাদনে নামেন। পরবর্তীতে পবা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে এই সার উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন।

বিলকিস বলেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের সবাইকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। তারা বর্তমানে যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। সন্তানরা কেউ তাদের সাথে নেই। স্বামী আব্দুর রশিদ খাঁ অসুস্থ হওয়ায় ক্ষেতে কাজ করতে পারেন না। তাদের মাঠে কিছু সম্পত্তি থাকলেও অসুস্থতার জন্য তারা কেউ মাঠে কাজ করতে পারেন না। বর্তমানে এই সার উৎপাদন করেই তিনি সংসার নির্বাহ করছেন। বিলকিস বলেন, প্রথমবার তিনি মাত্র ৬০০টাকার সার বিক্রি করেছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।

পর্যায়ক্রমে তিনি চাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করেন। এখন তার চাড়ির সংখ্যা শতাধিক এবং একটি হাউজ রয়েছে। সেখানে প্রায় পঞ্চাশটি চাড়ির পরিমান গোবর রাখা যায়। পবা উপজেলা বড়গাছী ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন তাঁকে এই হাউজ করে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সার্বক্ষণিক তার এই খামার তদারকি করেন বলে জানান বিলকিস। বিলকিস আরো বলেন, এই সার উৎপাদন করার পূর্বে সংসার নিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করতেন। এখন তার একমাত্র উপার্জনের পথ এই কেঁচো সার খামার। তারা স্বামী স্ত্রী মিলে এই খামারে সার্বক্ষণিক কাজ করেন।

সার উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে তিনি গোবর সংগ্রহন করেন। সংগৃহীত গোবর ২০-২৫দিন একস্থানে গচ্ছিত রেখে পরে হাউজ ও চাড়িতে দেন। এই গোবর কেঁচো বেশী খায় এবং সারও বেশী হয়। প্রতিমাসে সার বের করে নিতে হয়। পরে আবার গোবর দিয়ে কেঁচো ছেড়ে দিতে হয় বলে জানান তিনি। তিনি বর্তমানে প্রতিমাসে গড়ে ১০মনের অধিক সার উৎপাদন করছেন। এছাড়াও আর কিছুদিন পরে হাজউ থেকে প্রতিমাসে আরো ১০-১২মন সার পাবেন। সেক্ষেত্রে প্রতিমাসে মোট ২০ মনের অধিক সার উৎপাদন হবে বলে জানান তিনি।

এই সার বেশীর ভাগ পবা কৃষি অফিস ক্রয় করেন। প্রতিমন সারের দাম ৫০০-৬০০টাকা করে কৃষি অফিস দেন। এছাড়াও অন্যান্য কৃষকরাও এখন তার নিকট থেকে সার ক্রয় করছেন বলে জানান তিনি। শুধু তাই নয় প্রায় তিন থেকে চার মাস তিনি প্রতি কেজি ৮০০-১০০০টাকা দরে কেঁচো বিক্রি করেন। এই কেঁচো থেকেও অনেক আয় করেন বলে জানান বিলকিস।

বিলকিস এখন একজন নারী উদ্যোক্ত্যা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে তার সংসারে কোন অভাব নাই। প্রতিমাসে তিনি গড়ে ৮,০০০-১০,০০০টাকা আয় করেন। সংসারে এবং চিকিৎসার খরচ বাদেও প্রতি বছর সঞ্চয় থাকছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পবা উপজেলা বড়গাছী ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার জালাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, এই ব্লকে তিনি নতুন এসেছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কেঁচো সার উৎপাদনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের আধুনিক কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় সেডসহ হাউজ করে দিয়েছেন। আগামীতে আরো দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এই সার উৎপাদন ও ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে উৎপাদনকারীদের নিকট হতে কেঁচো সার ক্রয় করা হয়।

আর এই সার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, এই সার ব্যবহার করলে একদিকে যেমন মাটির স্বাস্থ্যভাল থাকে তেমনি ফসল ভাল হয় এবং রাসায়নিক সার মুক্ত ফসল পাওয়া যায়। মাটির উর্বরাশক্তি ধরে রাখতে কৃষকদের ভার্মি কম্পোস্ট ( কেঁচো সার) ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেন এই কৃষি অফিসার।

উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা বলেন, অত্র উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারনের লক্ষে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিলকিস আরা বেগমকে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। সেইসাথে সেডসহ একটি হাউজ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এতে এই সার উৎপাদন করতে তার অনেক সহজ হবে। আগামীতেও এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। এই ধরনের উদ্যোক্ত্যাদের উৎপাদিত সার কৃষি অফিস ক্রয় করছে। আগামীতেও চলামান থাকবে। তিনি নারী উদ্যোক্ত্যা হিসেবে বিলকিস আরা বেগমের আরো সাফল্য কামনা করেন।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin