বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ এবং গেঞ্জি উপহার বিএমডিএ এর সাথে রেহান আসিফ আসাদ মতবিনিময় সভা কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

কাশিয়াডাঙ্গা থানাকে শিশুবান্ধব করতে কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮৭ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতাদের মতামত এক জায়গায় এনে কাশিয়াডাঙ্গা থানার বিদ্যমান সেবার সমস্যা ও ঘাটতি চিহ্নিত করে তার সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য থানাকে আরও নিরাপদ, সহায়ক ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরের কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে ‘অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ও কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি) এ সভার আয়োজন করে।

সভায় শিশু, অভিভাবক, পুলিশ-প্রশাসন, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, শিশু ও যুব প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী থানাকে শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নির্ধারিত মানদণ্ড বাস্তবায়ন জরুরি। শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তন নয়, শিশুদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের আচরণ, নিরাপত্তা, দ্রুত সেবা, তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তাও শিশুবান্ধব থানার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সিটিজেন ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন (সিভিএ) কার্যক্রমের আওতায় কাশিয়াডাঙ্গা থানার সেবা গ্রহণকারী নারী, পুরুষ, বালক ও বালিকাদের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হয়। ওই মূল্যায়নে পাওয়া মতামত ও সেবার ঘাটতিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

ওয়ার্ল্ড ভিশন এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিভিএ কার্যক্রমের চারটি ধাপের শেষ ধাপ হলো ইন্টারফেস মিটিং। এ সভার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতাদের মতামত একত্র করা হয়। এতে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোন সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়। পরে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও সভায় শিশুদের মানসিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
নির্যাতন, নিখোঁজ, পারিবারিক সংকট কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়া শিশু থানায় এলে শুধু আইনি সহায়তা নয়, তার মানসিক অবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিশুদের সঙ্গে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের আরও সচেতন করার কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) মীর শাফিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল কাদিও, কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ফরহাদ আলী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন ও সিনিয়র সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটন।

এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোসা. শারমিন সুরভী আক্তার ও অর্জুন রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) মীর শাফিন মাহমুদ বলেন, শিশুদের জন্য থানাকে আরও নিরাপদ, সহায়ক ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ কাজ করছে। কোনো সংকটে শিশু থানায় এলে যাতে ভয় না পায় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়, সে জন্য পুলিশ সদস্যদের আরও সংবেদনশীল হতে হবে। সভায় উঠে আসা বাস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম বলেন, শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিশু, পুলিশ, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিভিএ কার্যক্রমের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin