নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত দিনে ভারতের নানা কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আশা প্রকাশ করেন, গ্যারান্টিসহ ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে ভারত বন্ধুত্বের নজির স্থাপন করবে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর বিভিন্ন নদ-নদী ও পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী পর্যন্ত পদ্মার ভাঙন রোধে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এছাড়া পদ্মার নাব্যতা রক্ষায় সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পটি ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে।
এর আগে সকালে রাজশাহী সফরে এসে পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ প্রকল্পের আওতাধীন এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
নদীটি পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “বারনই নদী দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও দূষণের শিকার। নদীর পানি এতটাই দূষিত যে, তা ব্যবহার করলে বা নদী পারাপারের সময় মানুষের শরীরে ঘা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘব ও নদীর পানি দূষণমুক্ত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নদীটি খনন ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।” খননকাজ শেষে নদীটি যেন পুনরায় দখল ও ভরাটের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে, দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর টি-বাঁধ এলাকাও পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধের বর্তমান অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং বাঁধের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল হোসেন এবং রাসিকের সচিব সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।