নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন!’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে বিলবৈলঠা আদিবাসী আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ন্যাশনাল এজেন্সী ফর গ্রিন রিভ্যুলেশন (এনএজিআর) সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, সঠিক নিয়ম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্যেশে বক্তব্য দেন এনএজিআর সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ হেমব্রম এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সারদা কোল হাঁসদা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিলবৈলঠা আদিবাসী আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা সবিতা মার্ডী ও প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন টুডু প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে খাবার গ্রহণের আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে এবং বাইরে থেকে আসার পর সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তারা নিজেরা যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে পারবে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে এ অভ্যাস চর্চার জন্য উৎসাহিত করা হয়। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বিলবৈলঠা ও এর আশপাশের অঞ্চলে কোল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে কাজ করে আসছে এনএজিআর (ন্যাশনাল এজেন্সী ফর গ্রিন রিভ্যুলেশন) সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটি স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। সংস্থাটি আজ বিলবৈলঠা স্কুলসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সংস্থা পরিচালিত তাবিথা কিন্ডার গার্টেন স্কুল, আমনুরা মিশন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সেন্ট এন্ড্রু’স জুনিয়র স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করে।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও রোগমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।