নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি মাসের গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে। বিএনপি ২১২টি আসন পেয়েছে। গত ১৭ তারিখ মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহন করেন। অন্যান্যদের মত এই শপথ গ্রহন করেন পবা-মোহনপুর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। শপথ গ্রহন করার তিনদিন পরে রাজশাহীতে ফিরে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকের সাথে কথা বলেন তিনি।
এ সময়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ আঠার বছর বছর পরে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। সেইসাথে সৃষ্টি হয়েছে কাজের পরিবেশ। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সময় তিনি দুই উপজেলার রাস্তার বেহাল দশা দেখেছেন। রাস্তা ভাল না হলে মানুষের চলাচল যেমন ব্যাহত, তেমনি উন্নয়নেও বাধা গ্রস্থ হয়। জনগণ তাদের উৎপাদিত পন্য বাজারজাত সঠিকভাবে না করতে পারায় লোকসানে পরেন। এজন্য প্রথমেই পবা ও মোহনপুরের সকল রাস্তার উন্নয়ন করা হবে। সেইসাথে যে সব এলাকায় এতদিনও রাস্তা পাকা করা হয়নি সেগুলো পাকা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরো বলেন, ইতোমধ্যে পবা এলাকায় গৃহীনিদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি প্রচারণায় সময়ে বলেছিলেন প্রতিটি ঘরে ঘরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কথা বলেছিলেন। এভাবেই পর্যায়ক্রমে তিনি উন্নয়ন কাজগুলো সবাইকে সাথে নিয়ে করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সতের বছরে পবা মোহনপুর এলাকায় কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সদর দরজার আড়ালে ভিন্ন চিত্র এই দুই উপজেলায়।
পবা-মোহনপুর হচ্ছে শস্য ভান্ডার খ্যাত এলাকা। এখানে সব ধরনের কৃষি পন্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সকল পন্য সংরক্ষণের তেমন ব্যবস্থা নাই। এজন্য এই এলাকায় একটি কৃষি ইপিজেড করবেন তিনি। সেইসাথে মোহনপুর এলাকার পান সংরক্ষণে এবং পানের পচনসহ অন্যান্য রোগ রোধে গবেষণার ব্যবস্থা করবেন। এছাড়াও কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে বেকার সমস্যা দূরীকরণ করবেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির লেয়ার নিচে নেমে যাচ্ছে। এজন্য আগামীতে খাবার পানিসহ সেচ কার্যের পানির সমস্যা হবে। এই সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচী শুরু করবেন। সেইসাথে ড্রেন এর পানি সেচ কার্যে ব্যবহার করার জন্য পানি রিফাইন এর জন্য প্ল্যান্ট স্থাপন করবেন বলে উল্লেখ করেন এমপি।
তিনি আরো বলেন, মাদক একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সেইসাথে আইনশৃংখলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। সেইসাথে বেকারত্ব সমাধানে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ উদ্যেক্তা তৈরী করা হবে। এছাড়াও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্যান্য কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।