নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলায় খাল খনন কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,“জেলার খাল খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি বর্তমানে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, অর্থাৎ আমরা প্রায় ৫০ শতাংশ অর্জন করেছি।”বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস যৌথভাবে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সারাদেশে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহী জেলায় ১৬টি খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকল্প এলজিইডি এবং দুটি প্রকল্প বিএমডিএ বাস্তবায়ন করছে।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চারটি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন, যার মধ্যে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৬৯ জন উপকারভোগীর মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে।
খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী রাজশাহীর ছয়জন ক্রীড়াবিদকে বিশেষ কার্ড প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে সহায়তা পাবেন। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ জেলা পর্যায়ের খেলা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আগামী ১৭ মে থেকে শুরু হবে। এ প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট ও সাঁতারসহ আটটি ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বনায়ন কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে জুন মাসে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার এলাকায় বাগান সৃজন করা হবে এবং প্রতি কিলোমিটারে এক হাজার করে গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৩ হাজার ২০০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শোভা বর্ধনকারী গাছ হিসেবে ৮ হাজার ৯০০টি গাছ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
কৃষকদের সহায়তা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, রাজশাহীতে ১১৩ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব ঋণ মওকুফ করা হবে।
জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরা খাতুন এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।