নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উপজেলার কাঁকনহাটে মহান সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কাঁকনহাট পৌরসভা থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাঁওতাল ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির জনগণ মিলে বর্নাঢ্য র্যালি বের করে পৌরবাজার প্রদক্ষিণ করে পুণরায় পৌরসভা প্রাঙ্গনে এসে শেষ করে। পরে পৌর অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোদাগাড়ী উপজেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদ এর আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জ্যাপ সভাপতি রবিন হেম্ব্রম।
বিশেষ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গণেশ মার্ডি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, জেলার সহ-সভাপতি উত্তম কুমার খালকো, আসুস এর নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও, গোদাগাড়ী উপজেলা জ্যাপ এর সাবেক সভাপতি নন্দলাল টুডু, রাজশাহী মহানগর জ্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, জ্যাপ উপজেলা কমিটির সদস্য অজিদ মুন্ডা, গোগ্রাম ইউনিয়নের সভাপতি পিউস হেম্ব্রম ও সাবেক উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান ও সদস্য উত্তম মাহাতোসহ অন্যান্য আদিবাসী নেতৃবৃন্দ।
আলোচনায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৮৫৫ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে যেয়ে সিধু-কানহু, চাঁদ ও ভৈরবসহ তাদের পরিবারে আরো বেশ কয়েকজন নিহত হন। সেই থেকে এই বীরদের স্মরনে প্রতিবছর দেশে ও বিদেশে যেখানে সাঁওতালসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির জনগণ রয়েছেন সেখানেই নানা কর্মসূচী পালন করা হয়। তারা আরো বলেন, এই জনগোষ্টির জন্য এই বীরসেনারা প্রাণ বিসর্জন দিলেও আজও সমতলের আদিবাসীদের কোন উন্নয়ন হয়নি। তারা এখনো বৈষম্যের শিকাড় হচ্ছে। পাহাড়ীদের জন্য হাজার নহাজার কোটি টাকা বাজেট ও আলাদা মন্ত্রণালয় হলেও সমতলেল আদিবাসী জনগণেল জন্য কিছুই হয়নি।

বক্তারা বলেন, আতিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি নয় আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বাধীন ভূমি কমিশন ও পৃথক সন্ত্রণালয় গঠন করার দাবী জানান। শুধু তাইনয় উত্তর বঙ্গ থেকে জাতীয় সংসদের জন্য সংরক্ষিত সংসদ সদস্য আসন এবং জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত পরিমানে বাজেট রাখার দাবী করেন নেতৃবৃন্দ।