নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পাকড়ী ইউনিয়নের পাকড়ী দক্ষিণপাড়া মদনবাড়িয়া গোরস্থানের জমি রক্ষায় এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পাকড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় অত্র এলাকার শত শত নারী পুরুষ এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধন থেকে তারা বলেন, এই গোরস্থান তাদের বাবা দাদাদের আমল থেকে চলমান রয়েছে। এইখানে তাদের অনেক আত্মীয় স্বজন চিরনিন্দ্রায় শুয়ে আছেন।
অথচ এই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মান্নান, জয়নাল আবেদীন মিঠু, ফারুক হোসেন, সিরাজুল ইসলাম ও জিল্লার রহমান মিলে যার সাবেক দাগ নং- ১২৮৫, হাল দাগ নং- ১৩২৮, খতিয়ান-৭২/১, মৌজা- ৯২ নং পাকড়ী, মোট জমির পরিমান ১.৮৪ একর। এর মধ্যে উপরোক্ত বক্তিগণ ০.৬৭০০ একর সম্পত্তি তাদের বলে দাবী করেন। সেইসাথে ঐ জমি থেকে তারা কবর ও মানুষের কঙ্কাল তুলে ফেলে । সেইসাথে বিভিন্ন ধরনে গাছ কেটে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়াও তারা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে জমি দখলসহ এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে জানান তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অত্র গোরস্থান পরিচালনা পর্যদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গোরস্থান পরিচালনা পর্যদের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, সদস্য আব্দুল জলিল, রকিব, নাসির উদ্দিন, গোলাম রসুল, নাজির, আলফাজ, এলাকাবাসী সুফিয়া বেগম, আলেয়া বেগম, মেহেনা বেগম, পাকড়ী ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী, ফরিদ, নাসির উদ্দিন, নয়ন ও মনিরুলসহ এলাকার শত শত নারী পুরুষ।
ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী বলেন, এই গোরস্থান কতদিন পূর্বে তৈরী হয়েছে তার জানা নেই। তাঁর বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে শুনে আসছেন এই গোরস্থান শতাধিক বছর পূর্বে তাদের পূর্ব পুরুষগণ তৈরী করে গেছেন। সেই সময় থেকে তারা এখানে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কবর দিয়ে আসছেন। এছাড়া এই গোরস্থানের সংস্কার এবং গেট নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ করার জন্য রাজশাহী জেলা পরিষদ হতে অনুদান পান। তা দিয়ে সেই কাজ গুলো করা হয়েছে জানান তিনি।

এই গেট গোদাগাড়ী-তানোর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী উদ্বোধন করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ০.৬৭০০ একর সম্পত্তির রেকর্ড বাতিলের জন্য মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলা নিস্পত্তি না হতেই এই কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর করে সন্ত্রাসী ভাড়া করে গোরস্থানের জমি দকল করার পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গোরস্থান রক্ষায় তিনিসহ সকলেই আইন শৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গোরস্থানের জমি দখল সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বলেন, এই ০.৬৭০০ একর সম্পত্তি তাঁর বড় ভাই আব্দুল হান্নানের। সরকারের নিকট হতে সালামীর মারফত আব্দুল হান্নান নেন। ১৯৭২ সালে তার নামে ঐ জমি রেকর্ড হয়। এরপর তার ভাই খাজনা খারিজ করে নিয়েছেন এবং নিয়মিত খাজনা প্রদান করছেন। রেকর্ড বাতিলের দাবীতে গোরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। সে মামলা এখন চলমান রয়েছে। মামলায় যিনি জিতবেন জমি তার হবে বলে তিনি জানান। তবে তার ভাইয়ের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান আব্দুল মান্নান।